ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকার আহ্বান এমপি শ্যামলের

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকার আহ্বান এমপি শ্যামলের

সমাজ ও পরিবারে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

তিনি বলেছেন, "মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে। তাই সমাজ ও পরিবারে শান্তি বজায় রাখতে হলে সবার আগে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হবে।" মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সদর মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শ্যামল বলেন, সীমান্তপথে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে আরও সমন্বিত ও কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের প্রতি নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান না করে, সে বিষয়ে পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবারের নজরদারি কমে গেলে অনেক কিশোর-কিশোরী মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, শুধু পুলিশের অভিযান দিয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া স্থায়ী সমাধান আসবে না। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাদকাসক্তদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা জরুরি। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে কেউ যেন মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান তিনি। জামায়াতে ইসলামীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন বলেন, সব ধর্মেই মাদক সেবন ও ব্যবসা নিষিদ্ধ। মাদক একটি সামাজিক অভিশাপ, যার বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম চপলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে র‌্যাব-৯-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নুরুন্নবী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাজেদুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম খোকন, সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন, ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’-এর পরিচালক মাহফুজুর রহমান পুষ্পসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ বন্ধ, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, পারিবারিক নজরদারি বৃদ্ধি, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলেই মাদকমুক্ত ও নিরাপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তোলা সম্ভব।

কালের সমাজ/কে.পি
 

Link copied!