গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাপ-দাদার জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছে সাঁওতাল-বাঙালিরা। ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আদিবাসী তরুণরাই মূল শক্তি` প্রতিপাদ্যে রোববার সারাদেশের ন্যায় গাইবান্ধায়ও আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
দুপুরে গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাব মিলনায়তনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একটি শোভাযাত্রা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে সাঁওতাল নারী-পুরুষরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তীর-ধনুক ও বাদ্যযন্ত্রসহ তাদের অধিকার ও দাবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, কাপেং ফাউন্ডেশন, এএলআরডি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা ঘোড়াঘাট ও গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সাঁওতাল হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ১০ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। অথচ এমন একটি বিভৎস, অমানবিক ঘটনার আজও বিচার হয়নি। সাঁওতাল হত্যার আসামী সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুলসহ আসামিদের গ্রেফতারের দাবি করেন। উপরন্তু মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিদস্যু স্বপন শেখ ও আতাউর রহমান সাবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা নতুন করে সাঁওতালদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাড়িঘর ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর ভাংচুর এবং জমি দখল করে নিচ্ছে। এ নিয়ে সাঁওতালদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বক্তারা অবিলম্বে স্বপন-সাবুকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নেওয়ার দাবি জানান।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খোকন সুইটেন মুরমু, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিটিশ সরেন, আদিবাসী- বাঙালি সংহতি পরিষদ, গাইবান্ধা সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য সচিব মোর্শেদ হাসান দীপন, আদিবাসী নেতা আনিছুর রহমান মইনুল, অঞ্জলী মুরমু, তৃষ্ণা মুরমু প্রমুখ।
‘আদিবাসী’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, সারাদেশে সাঁওতালসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠী মানবাধিকার এবং জীবনমানের সার্বিক দিক দিয়ে আজও নানাভাবে বঞ্চিত। সে কারণেই তারা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর থেকে পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত। এ অবস্থার নিরসনের দাবি জানান বক্তারা। শেষে একটি মনোজ্ঞ আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
কালের সমাজ/কে.পি

