শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটছিলাম। এরই মধ্যে মশিউস ছগির নামের আমার এক সুহৃদ জানালেন, ভাই আপনার আশেপাশেই ‘রক্ত করবী’ ফুল আছে। কোথায় আছে এই ফুল? জানতে চাইলে তিনি ঠিকানা জানালেন। আমি ঠিকানার লোকটিকে ফোন করলাম। তিনি এসে মোটরসাইকেলে করে আমাকে তার বাসার ছাদে নিয়ে গেলেন। ছাদে উঠতেই চোখে পড়ল ফুলে ফুলে শোভিত ‘রক্ত করবী’ গাছ। দেখতে কী অনিন্দ্য সুন্দর আর আকর্ষণীয়। ঝটপট কিছু ছবি তুলে নিলাম।মাগুরার মহম্মদপুর কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা সদরের আবদুর রশীদ যশোরী সড়কের বাসিন্দা শেখ শহিদুল ইসলামের বাড়ির ছাদে সবুজ পাতার ভেতরে থোকায় থোকায় ফুটছে এই দৃষ্টিনন্দন ‘রক্ত করবী’ ফুল।
শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০২১ সালের দিকে বাড়ির ছাদে একটি টবে রক্ত করবী ফুল গাছের চারা রোপণ করেন। তিন বছর যত্ন ও পরিচর্যার পর ফুল আসে। ফুলটি আমাকে খুবই মুগ্ধ করে।’
এটির বৈজ্ঞানিক নাম : ঘবৎরঁস ড়ষবধহফবৎ, এটি অঢ়ড়পুহধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। ইংরেজিতে এই গুল্ম ঙষবধহফবৎ, ঘবৎরঁস ইত্যাদি নামে পরিচিত। গাছ সাধারণত গোড়া থেকে ওঠা বেশ কটি ডালের একটি ঝোপ তৈরি করে। ডালের ওপরের দিকে পাতা থাকে আর থাকে পাঁচ পাপড়ির ফুল। প্রায় সারা বছরই ফুল ফোটে। এর পাতা সরু ও লম্বাটে। করবীর ফুল বাইরের দিকে ফোটে। শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে ফুল ধরে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতায় লিখেছেন, ‘যখন বিদায়-বাঁশির সুরে সুরে, শুকনো পাতা যাবে উড়ে, সঙ্গে কে র’বি। আমি রব, উদাস হব ওগো উদাসী, আমি তরুণ করবী।’
তথ্যানুযায়ী, এই ফুলের আদি বাসস্থান দক্ষিণ আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আবার কারও মতে, এই উদ্ভিদের আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ। বর্তমানে এটি থাইল্যান্ড, চীন, বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা, ইউরোপ ও আমেরিকার বেশ কিছু এলাকাজুড়ে দেখতে পাওয়া যায়।
‘রক্ত করবী’ নামে একটি নাটকের কথাও আমরা জানি। কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের বিখ্যাত একটি বইয়ের নাম ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’। একটি ফুল কতটা জনপ্রিয় হলে মানুষের এমন জীবনঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। সবুজের পটভূমিতে এই রক্ত করবী চারপাশের দৃশ্যপট বদলে দেয়।
ডালের আগায় গুচ্ছবদ্ধভাবে ফোটা এই ফুলের প্রধান মৌসুম গ্রীষ্ম-বর্ষা ঋতু। শরৎ-হেমন্তেও কিছু ফুল দেখা যায়। আবার সারা বছরজুড়েও ফুল ফোটে। আমাদের দেশে সাধারণত তিন রকম করবী দেখা যায়-রক্তকরবী, ‘সাদাকরবী (শ্বেতকরবী) ও ডাবল গোলাপি বা পদ্মকরবী।
কালের সমাজ/কে.পি

