সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১৫০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। দুপুরের জোয়ারের আগে ভাঙন ঠেকানো না গেলে কুড়িকাহুনিয়াসহ আশপাশের ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।ভাঙন শুরু হওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বাঁধ রক্ষার কাজে নেমে পড়েন। জোয়ারের পানির চাপ সামাল দিতে বস্তা ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খোলপেটুয়া নদীতে জোয়ারের সময় পানির চাপ ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের ওই অংশে ভাঙন শুরু হয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বড় হতে পারে। এতে নদীর লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দাউদ আলী বলেন, ‘কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশ থেকে প্রায় ১৫০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে বাঁধ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহমান তাজকিয়া বলেন, ভাঙন রোধে স্থানীয়দের সাথে আমরাও সহযোগিতা করছি। জরুরিভিত্তিতে ভাঙন রোধে জোয়ারের প্রেসারের কারণে ফাটল ও ধস নামছে ওই জায়গায়। আমরা দ্রুত যেভাবে পারি বস্তা ডাম্পিং করে, পেছনে জিও টিউব দিয়ে অলটারনেটিভ বাঁধ তৈরি করার কাজ শুরু করেছি।
এদিকে প্রতাপনগর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশও খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার ও স্রোতের চাপে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব অংশে দ্রুত ভাঙন রোধ ও টেকসই সংস্কার করা না হলে বিস্তীর্ণ জনপদ, ফসলের মাঠ ও মৎস্যঘের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বর্তমান ভাঙনস্থল রক্ষার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কার করতে হবে। উপকূলের মানুষ যেন বারবার জোয়ারের পানির আতঙ্কে না থাকেন, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কালের সমাজ/কে.পি

