ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

লামায় ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সনদ পেতে ৯ ধরনের কাগজপত্র, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান | নভেম্বর ৩, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম লামায় ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সনদ পেতে ৯ ধরনের কাগজপত্র, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় উপজেলার ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ জন্মনিবন্ধন, জাতীয়তা সনদ, নাগরিকত্ব প্রত্যয়নসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা নিতে প্রতিদিনই ইউনিয়ন পরিষদে যান সাধারণ মানুষ। কিন্তু এসব সেবা নিতে গিয়ে যদি নাগরিকদের একের পর এক কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হয়, তাহলে সেই সেবা কতটা জনবান্ধব এমন প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) অনুসন্ধানে গেলে দেখাযায় লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয়তা সনদ, প্রত্যয়নপত্র, বিশেষ প্রত্যয়ন ও ভূমিহীন সনদ নিতে আবেদনকারীদের জন্য দেওয়া একটি ফরমে ৯ ধরনের কাগজপত্র সংযুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ। এ তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া আবেদন ফরম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের জমা দিতে হবে ১. জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি,২. নির্বাচন অফিস কর্তৃক সত্যায়িত এনআইডি ভেরিফিকেশন কপি, ৩. জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি, ৪. ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক সত্যায়িত জন্মনিবন্ধন ভেরিফিকেশন কপি, ৫. পিতা-মাতার এনআইডি অথবা মৃত্যু সনদের ফটোকপি, ৬. নিজ, পিতা-মাতা কিংবা দাদা-দাদির জমির খতিয়ান অথবা ভূমিহীন সনদ, ৭. বিদ্যুৎ বিলের কাগজ, ৮. হাল সনের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের কাগজ এবং ৯. পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, এ ছাড়া আবেদনপত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্যের স্বাক্ষর এবং সিল সংগ্রহের বিষয়টিও রাখা হয়েছে। এতগুলো কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের যেসব পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, জমির খতিয়ান নেই কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের সামর্থ্য নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে সনদ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

ফাঁসিয়াখালীর ত্রিশডেবা, গয়ালমারা, সাপেরঘাটা ও ইয়াংছার মতো প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের ইউনিয়ন পরিষদ, নির্বাচন অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে যাতায়াত করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে যাতায়াতেই কারও কারও মোটরসাইকেল ভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন নাগরিকের পরিচয় ও স্থায়ী বসবাস যাচাইয়ের জন্য এতগুলো নথি কি প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক? বিশেষ করে জাতীয়তা সনদের মতো সাধারণ সেবা পেতে এত দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? যাঁদের জমির খতিয়ান বা বিদ্যুৎ বিল নেই, তাঁরা কীভাবে নাগরিক সেবা পাবেন? জনগণের কর ও সরকারি অর্থে পরিচালিত ইউনিয়ন পরিষদের মূল দায়িত্ব নাগরিকদের সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা।

প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই অবশ্যই থাকতে পারে, তবে তা যেন সাধারণ মানুষের জন্য অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির কারণ না হয়।এ বিষয়ে ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়দের দাবি, আবেদনপ্রক্রিয়ায় সংযুক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করে সহজ ও জনবান্ধব ব্যবস্থা চালু করা হোক। পাশাপাশি অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের সনদ দেওয়ার অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নাগরিক সনদ নাগরিকের অধিকার। সেবা পেতে গিয়ে যেন নাগরিকদের কাগজপত্রের বোঝা ও হয়রানির শিকার হতে না হয় এটাই স্থানীয়দের দাবী।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!