কুড়িগ্রামের উদীয়মান ও পরিচিত কণ্ঠশিল্পী স্মৃতি জান্নাত সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালের বিছানায় শয্যাশায়ী। অর্থের তীব্র সংকটে বর্তমানে তার চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর এভারকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। শুধু গুরুতর আহত নয়, পঙ্গুত্ব থেকে বাঁচতে এখন লড়ছেন এই শিল্পী।
স্মৃতি জান্নাত কুড়িগ্রাম পৌর শহরের ডাকবাংলা পাড়া এলাকার দিনমজুর শহিদুল ইসলামের মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গান গেয়ে তিনি নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে অর্জিত আয় দিয়ে তিনি পরিবারের হাল ধরেন।
জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর`২৪ ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন স্মৃতি। রাত আনুমানিক ১২:৩০ মিনিটে কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা মাঠের পাড় এলাকায় পৌঁছালে একটি চলন্ত ট্রলির সাথে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল চালক তার ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম এবং স্মৃতি জান্নাত দুজনেই রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। স্মৃতি জান্নাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বর্তমানে রংপুর এভারকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় স্মৃতি জান্নাতের ডান পায়ের চার জায়গায় হাড় ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে, দুই হাত ভেঙে গেছে এবং চোখের ওপরের অংশ মারাত্মকভাবে ফেটে গেছে। দ্রুত একাধিক জরুরি অস্ত্রোপচার (অপারেশন) করা প্রয়োজন। কিন্তু এই বিশাল অঙ্কের ব্যয়ভার বহন করা তার পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব।
দিনমজুর বাবা ও গান গেয়ে সংসার চালানো মেয়ের এমন অবস্থায় পরিবারটি এখন দিশেহারা। পরিবারের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন নিজেই এখন পঙ্গুত্ব বরণের দ্বারপ্রান্তে। স্মৃতি জান্নাতের জীবন বাঁচাতে ও চিকিৎসার খরচ জোগাতে হৃদয়বান ব্যক্তি ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম বিকাশ/নগদ (পার্সোনাল)
কালের সমাজ/কে.পি

