ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

নাঙ্গলকোটে আলোচিত তানভীর হত্যা মামলায় দুই বন্ধু গ্রেপ্তার

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি | অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম নাঙ্গলকোটে আলোচিত তানভীর হত্যা মামলায় দুই বন্ধু গ্রেপ্তার

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আলোচিত তানভীর হত্যা মামলায় তার দুই বন্ধু সিয়াম ও মুন্নাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদের সীতাকুণ্ড রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত তানভীর উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেল্টা এলাকার অটোরিকশাচালক মাঈন উদ্দিনের ছেলে।
 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে তানভীর তার বাবার সঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। এ সময় তার দুই বন্ধু সিয়াম ও মুন্না ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে যায়। ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে তানভীর তার মা নাসিমা বেগমকে ফোন করে জানায়, তারা চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছে। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তানভীরের সন্ধান না পেয়ে পরদিন সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান। পরে হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিভিন্ন স্টেশনে যোগাযোগ করা হয়। সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সীতাকুণ্ড রেলওয়ে স্টেশন থেকে একটি মরদেহের ছবি হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশনে পাঠানো হয়। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তানভীরের পরিবারকে জানালে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সীতাকুণ্ডে গিয়ে মরদেহটি দেখে নিজের ছেলে তানভীর হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। তবে তানভীরের সঙ্গে থাকা তার দুই বন্ধু সিয়াম ও মুন্নার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তারা আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদে তানভীরের মৃত্যুর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসে বলে জানা গেছে।
 

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ঘটনার বর্ণনা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রেনে তাদের সঙ্গে পাঁচজন ছিনতাইকারীর পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তিরা তাদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তানভীরকে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে সিয়াম দাবি করেছে। ঘটনাটি ফাজিলপুর রেলওয়ে স্টেশন পার হওয়ার পর এবং সীতাকুণ্ড রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর আগের সময়ে ট্রেনের মধ্যে ঘটেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে ওই পাঁচ ব্যক্তিকে তারা আগে থেকে চিনত না বলেও সিয়ামের বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে। এদিকে, তানভীরের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে না জানিয়ে সিয়াম ও মুন্না আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও তাদের বিরুদ্ধে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। নিহত তানভীরের বাবা মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমার ছেলে হত্যার সঙ্গে তার দুই বন্ধু জড়িত। তারা জড়িত না থাকলে পালিয়ে যেত না এবং হত্যার বিষয়টি গোপন করত না।” এ ঘটনায় মাঈন উদ্দিন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় তানভীর হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সিয়াম ও মুন্নাকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের গ্রেফতার করে সীতাকুণ্ড রেলওয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সীতাকুণ্ড রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, “আসামিদের আমরা পেয়েছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!