ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার ১

গাজীপুরে চাঁদা না পেলে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি

জেলা প্রতিনিধি,গাজীপুর | অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম গাজীপুরে চাঁদা না পেলে পাইকারি মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকি

গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না দিলে মার্কেটে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জুয়েল আহমেদ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।

গ্রেফতার জুয়েল আহমেদ জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার কাঠারবিল গ্রামের সাদা মিয়ার ছেলে। তিনি গত প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে আসছিলেন।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর বিকেলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেট পরিচালনা কমিটির কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মার্কেটটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর ওই মার্কেটে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে এবার আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিলটন হোসেন গত ৬ অক্টোবর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে গত ১২ অক্টোবর পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ তদন্ত দল ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গাজীপুরের বাসন থানাধীন দীঘিরচালা এলাকা থেকে জুয়েল আহমেদকে গ্রেফতার করে।

ঋণের টাকা পরিশোধে চাঁদাবাজির পরিকল্পনা

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ায় আসক্তির কারণে জুয়েল বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেই ঋণের টাকা পরিশোধের উদ্দেশ্যে তিনি মার্কেটের সামনের সাইনবোর্ড থেকে যোগাযোগের নম্বর সংগ্রহ করে চাঁদাবাজির পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকির মুখে মার্কেট কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার বিকাশের মাধ্যমে জুয়েলকে তিন হাজার টাকা এবং শনিবার আরও দুই হাজার টাকা পাঠায়। সোমবার তাকে আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

অগ্নিকাণ্ড ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, “একটি সফল অভিযানের মাধ্যমে আমরা একটি সম্ভাব্য নাশকতা রুখে দিতে পেরেছি। আসন্ন শীতের শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রতিটি মার্কেটে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। চাঁদাবাজি ঠেকাতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ক্যাসিনো আসক্তি থেকে যুবসমাজকে বের করে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পিবিআই জানিয়েছে, চাঁদাবাজির এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!