কুমিল্লায় কোরপাই-আবিদপুর সড়কে ডাকাতির প্রস্তুতি: দেশীয় অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ২ সদস্য গ্রেপ্তার এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চতুরতার সঙ্গে পালিয়ে যায় দলটির আরও ৫-৬ জন সদস্য।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের বাজেবাহেরচর গ্রামের মৃত ফরহাদ মিয়ার ছেলে মো. ইব্রাহিম খলিল (৩২) এবং দেবপুর এলাকার মৃত ফুল মিয়ার ছেলে মো. রিয়াদ হোসেন (২৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) গভীর রাতে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দিকনির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, মোকাম ইউনিয়নের মনঘাটা-নিমসার বাজার থেকে আবিদপুরগামী পাকা রাস্তার নাগিনীজলার কালভার্টের ওপর একদল সশস্ত্র ডাকাত পথচারী ও যাত্রীবাহী যানবাহনে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলটি পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ সাহসিকতার সঙ্গে ধাওয়া করে ইব্রাহিম খলিল ও মো. রিয়াদ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে। তবে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে তাদের অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে ধৃত আসামিদের শরীর তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ধারালো চাপাতি, লোহার রড, হেকসো ব্লেড ও কাঠের বাটযুক্ত ধারালো হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে নির্জন রাস্তায় ওঁৎ পেতে থেকে পথচারী ও যাত্রীবাহী যানবাহনে ডাকাতি করে আসছিল।
এ বিষয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুরেজিত বড়ুয়া জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানাসহ বিভিন্ন থানায় মাদক, ডাকাতি, মারামারি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
কালের সমাজ/কে.পি

