ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদগাঁওয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম ঈদগাঁওয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের শাহ ফকির বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। এদিকে, ঈদগাঁও উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
অগ্নিকাণ্ডে আবছার উদ্দিনের মালিকানাধীন ঈদগাঁও জনতা মোটরস, মাওলানা শামসুদ্দিনের মালিকানাধীন জামিল হার্ডওয়্যার এবং মামুনুর রশীদের মালিকানাধীন মডার্ন হোমস ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায়।
ঈদগাঁও জনতা মোটরসের স্বত্বাধিকারী আবছার উদ্দিন জানান, হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রামু ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীদের ঘটনাস্থলে আসতে হয়। তাঁরা পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এরই মধ্যে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মডার্ন হোমসের স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশীদ। তিনি জানান, ধারদেনা করে এবং বাকিতে সম্প্রতি দোকানে বিপুল পরিমাণ মালামাল তুলেছিলেন। কিন্তু আগুনে তাঁর দোকানের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ব্যবসা ও পুঁজি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এই ব্যবসায়ী। একদিকে দোকানের মালামাল হারানোর ক্ষতি, অন্যদিকে ধারদেনা পরিশোধের চাপ—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করেছেন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের দুর্দশার কথা শোনেন। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শাহ ফকির বাজার ব্যবসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ওবাইদুর রহমান বলেন, ঈদগাঁও উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। আগুন লাগার পর দূরবর্তী স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। এ সময়ের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের মতে, ঈদগাঁওয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। শাহ ফকির বাজারের এ অগ্নিকাণ্ড আবারও সেই সংকটকে সামনে এনেছে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় ঈদগাঁওয়ে দ্রুত একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারি সহায়তা প্রদান এবং তাঁদের পুনরায় স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!