ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
মাগুরার এসপির প্রেস বিফ্রিং

স্বর্ণ লুট ও যুবদল নেতা শাকের হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন

এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর (মাগুরা) | নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম স্বর্ণ লুট ও যুবদল নেতা শাকের হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন

মাগুরায় প্রায় তিন কোটি টাকার ১৫০ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং বহূলালোচিত পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শাকের হোসেন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এই দুই আলোচিত অপরাধের নেপথ্য কাহিনী এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতারের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

লুণ্ঠিত স্বর্ণ ও নগদ অর্থ ভাগ-বণ্টনকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান পুলিশ সুপার। তিনি জানান, স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় সাত জনকে এবং হত্যার পরিকল্পনাবারীসহ এ মামলায় ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে শ্যুটারকেও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

মাগুরার রামনগর বাজারের ১৫০ ভরি স্বর্ণ লুট মামলার বিবরণ : গত ৬ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের সময় মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় গোল্ডেন লাইন নামক একটি পরিবহন থেকে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে নামিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। নিজেদের পুলিশ পরিচয়ে  ১২-১৫ জনের একটি দল তাকে হুলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনি বাগানে নিয়ে ভয় দেখিয়ে ও মারপিঠ করে তার নিকট থাকা তেজাবী স্বর্ণের দন্ড ওজন ১৫০ ভরি, অনুমান বাজার মূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ও নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়।
এই ঘটনায় গত ২৮ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মো. মজিবর রহমান একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৬৩।

এরপর পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)  থান্দার খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত সাত জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো-মো. জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, মো. ফরিদ মন্ডল, মো. মিল্টন মোল্যা, মারুফা আক্তার, মো. গোলাম জাহিদ এবং মো. মারুফ হোসেন। তাদের সবার বাড়ি মাগুরা সদরের বিভিন্ন এলাকায়। এ সময় নয় ভরি সাত আনা ওজনের ১টি কাটা সোনার বার, ডাকাতিতে ব্যবহৃত দুইটি মোটরসাইকেল এবং একটি সিলভার রঙের টয়োটা ভিটস কার উদ্ধার করা হয়।
পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শাকের হোসেন হত্যা মামলার বিবরণ : গত ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে পাচটার সময় মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল কাউন্টারের ভেতর পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে (৩৬) মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা মাথায় গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় এদিন রাতেই নিহতের স্ত্রী শারমিন্নাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৪৯।
এরপর প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এ মামলায় মোট ছয় জন আসামিকে গ্রেফতার করা  হয়েছে। তারা হলো-রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম, অনিমেষ মজুমদার, মো. মারুফ হোসেন, মো. গোলাম জাহিদ ও বশির আলী। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পাচ জনের বাড়ির মাগুরা সদর ও এক জনের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। অভিযানকালে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বুলেট, খালি কার্তুজ এবং ৫টি স্বর্ণের  বার (ওজন ৫১ ভরি ৯ আনা) উদ্ধার করা হয়। আইনি অগ্রগতি ও জবানবন্দি : পুলিশ জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর ও বহূলালোচিত উভয় ঘটনার সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে মো. গোলাম জাহিদ বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।


কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!