ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ভোলায় আটক ভুয়া দুই ট্যাক্স আদায়কারীকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

জেলা প্রতিনিধি,ভোলা | নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম ভোলায়  আটক ভুয়া দুই ট্যাক্স আদায়কারীকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগর  ইউনিয়নে সরকারি ট্যাক্স আদায়ের নামে ভুয়া রশিদ দিয়ে টাকা তোলার সময় দুই প্রতারককে আটকের ঘটনায় পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে  বিজ্ঞ আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।
সূত্র মতে- 
জানা গেছে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে ছাপানো রসিদ নিয়ে ট্যাক্স আদায় করতে যান এক যুবক। এ সময় স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা তার পরিচয় ও ট্যাক্স আদায়ের বৈধতা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে তিনি নিজের নাম মো. রিয়াজ এবং পিএসবি প্রজেক্টের নিয়োগ করা খণ্ডকালীন ট্যাক্স কালেক্টর বলে পরিচয় দেন। তবে কিসের ভিত্তিতে এবং কার অনুমতিতে তিনি ট্যাক্স আদায় করছেন, সে বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।
পরে স্থানীয়রা হাসান নগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে কর আদায় করে সেই টাকা তারা কি করেছে তাও জানেন না বলে জানান। ওই যুবকের কথাবার্তায় অসংগতি ও মিথ্যা তথ্যের সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে প্রতারক চক্রের অপর এক সদস্য তাকে নিয়ে যেতে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়রা দুজনকেই অবরুদ্ধ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত মাসের ২৬ অক্টোবর  রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গ্রেপ্তার দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন এবং আটককৃত দুই প্রতারক জেল হাজতে রয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার ইমান আলীর ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম (৩৮) এবং নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ছফদ্দি মাহমুদের ছেলে মাহবুব ইসলাম সাগর (২৪)।
হাসান নগর ইউনিয়ন পরিষদ ১ নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ মিজান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রবীর কুমার দে পরিষদের হল রুমে সকল ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশদের নিয়ে একটি মিটিং এর আয়োজন করেন এ সময় সকল গ্রাম পুলিশকে উপস্থিত করে  নির্দেশনা দেওয়া হয়, প্রত্যেকে যেন প্রত্যেকের ওয়ার্ডে এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করে আর ইউনিয়ন ব্যাপি মাইকিং এর দায়িত্ব দেওয়া হয় গ্রাম পুলিশ মিজান এবং ইলিয়াসকে।
ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল উদ্যোক্তা মোঃ সাগর ভূঁইয়া জানান, হাসান নগর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে অফিস ও থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন সচিব। সেই সুবাদে প্রতারক চক্রটি ৫ থেকে ৬ দিন ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে অফিসও করেন।

এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ভালো বলতে পারবেন। হাসান নগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও প্রশাসকের কাছ থেকে তিনি যতটুকু জেনেছেন, তাতে ট্যাক্স আদায়ের সময় আটক ব্যক্তিদের সহায়তা করা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন।
স্হানীয়দের এবং সংশ্লিষ্টর বক্তব্য অনুযায়ী  ইউপি সচিব প্রবির কুমার দে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে  আইনগত ব্যবস্হা গ্রহন না করায় হতবাক হাসাননগর ইউনিয়নের বাসিন্দাগন।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী বলেন, এ ঘটনায় দুই গ্রেপ্তার ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে এবং প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে । তদন্ত সাপেক্ষে অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার  ৫ নভেম্বর ধার্য্য তারিখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা   এস আই মিনহাজুল ইসলাম  বিজ্ঞ আদালতে উপস্হিত হয়ে আটককৃতদের ৫ দিনের  রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত রিমান্ড আবেদন না মন্জুর করে জেল গেটে ২ দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। অন্যদিকে আটককৃতদের পক্ষে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মন্জুর করেন।
কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!