ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গাবতলী হাটে দামের বড় ধস: বিক্রি না হওয়া গরু নিয়ে চরম বিপাকে ব্যাপারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | মে ২৮, ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম গাবতলী হাটে দামের বড় ধস: বিক্রি না  হওয়া গরু নিয়ে চরম বিপাকে ব্যাপারীরা
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার গাবতলী পশুর হাট-এ কোরবানির ঈদের শেষ মুহূর্তে পশুর সরবরাহ বেশি এবং ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম থাকায় গরুর দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। এতে খামারি ও ব্যাপারীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং বহু অবিক্রিত গরু ট্রাকে করে ফেরত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

হাটে আসা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকদিনের বৃষ্টি ও কাদার কারণে পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে এবং বিক্রি কমে যায়। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে লোকসানে গরু বিক্রি করেছেন। কোথাও কোথাও প্রতি গরুতে প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে কিছু ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, শতাধিক গরু নিয়ে এলেও মাত্র অল্প অংশ বিক্রি করতে পেরেছেন, বাকিগুলো ফেরত নিতে হচ্ছে। ঈদের আগের তুলনায় প্রতি লাখ টাকার গরুর দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে ক্রেতারা জানান।

ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হয়েছে। আগে যে গরুর দাম ৩–৪ লাখ টাকার মধ্যে ছিল, সেটি শেষ সময়ে অনেক ক্ষেত্রে ২.৫–৩ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা সুবিধা পেলেও বাজারের ভারসাম্যহীনতায় ব্যাপারীরা বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে রাজধানীতে ঈদের নামাজ শেষে সড়কে পশু কোরবানি এবং যানজটের চাপও দেখা গেছে, যা নগর ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

এছাড়া, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ ঈদের সময় ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের খাবার ও পানির সংকট দেখা দেয়, ফলে ভোগান্তি বেড়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল আজহায় দেশে প্রায় ৯১ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছিল। চলতি বছরে কোরবানিযোগ্য পশুর সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ। এই ব্যবধানই বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ সৃষ্টি করে দাম কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এবারের কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-সরবরাহ ভারসাম্যহীনতায় খামারি ও ব্যাপারীরা বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়লেও ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে কম দামে পশু কেনার সুবিধা পেয়েছেন।

Link copied!