একটি মডেল ব্যবহার করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সফল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন জার্মান অর্থনীতিবিদ ইয়াকিম ক্লেমেন্ট। এবার সেই মডেল অনুযায়ী ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি। আসন্ন বিশ্বকাপ উপলক্ষে এবার দল ঘোষণা করল তিনবার ফাইনাল খেলা এই দেশ।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য আসরে নতুন উদ্যমে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে ডাচরা। রোনাল্ড কোম্যানের অধীনে গড়া এই দলে রয়েছে অভিজ্ঞ তারকা ও উদীয়মান তরুণ ফুটবলারদের দারুণ সমন্বয়। ইউরো ২০২৪-এর স্কোয়াড থেকে একাধিক পরিবর্তন এনে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে দল।
বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফেরার লক্ষ্যে এবার নেতৃত্বে থাকবেন মিডফিল্ড তারকা ফ্রেংকি ডি ইয়ং এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক। এছাড়া কোডি গাকপো, মেমফিস ডিপাই ও তিজ্জানি রেইন্ডার্সদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রাও রয়েছেন স্কোয়াডে।
বিশ্বকাপের জন্য নেদারল্যান্ডসের চূড়ান্ত দল:
গোলরক্ষক: মার্ক ফ্লেকেন (বায়ার লেভারকুসেন), রবিন রুফস (সান্ডারল্যান্ড), বার্ট ভারব্রুগেন (ব্রাইটন)
ডিফেন্ডার: নাথান আকে (ম্যানচেস্টার সিটি), ডেনজেল ডামফ্রিস (ইন্টার মিলান), জোরেল হাটো (চেলসি), জুরিয়েন টিম্বার (আর্সেনাল), মিকি ফন ডে ভেন (টটেনহ্যাম), ভার্জিল ভ্যান ডাইক (লিভারপুল), জান পল ফন হেকে (ব্রাইটন)
মিডফিল্ডার: ফ্রেংকি ডি ইয়ং (বার্সেলোনা), মার্টেন ডি রুন (আতালান্তা), রায়ান গ্রাভেনবার্খ (লিভারপুল), জাস্টিন ক্লুইভার্ট (বোর্নমাউথ), টিউন কুপমেইনার্স (ইউভেন্টাস), তিজ্জানি রেইন্ডার্স (ম্যানচেস্টার সিটি), গুস টিল (পিএসভি আইন্দহোভেন), কুইন্টেন টিম্বার (মার্সেই), ম্যাটস উইফার (ব্রাইটন)
ফরোয়ার্ড: ব্রায়ান ব্রব্বি (সান্ডারল্যান্ড), মেমফিস ডিপাই (করিন্থিয়ান্স), কোডি গাকপো (লিভারপুল), নোয়া ল্যাং (গালাতাসারাই), ডোনিয়েল মালেন (এএস রোমা), ক্রাইসেনসিও সামারভিল (ওয়েস্ট হ্যাম), ওয়াউট ভেগহর্স্ট (আয়াক্স)
প্রধান কোচ: রোনাল্ড কোম্যান
এই দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ধরা হচ্ছে ফ্রেংকি ডি ইয়ংকে। বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডার ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে এবারও দলের মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবেন। বল দখল, দ্রুত আক্রমণ এবং আক্রমণভাগে গতিময় ফুটবলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চায় নেদারল্যান্ডস।
ইউরো ২০২৪-এর দলের তুলনায় এবার ১৩টি পরিবর্তন এনেছেন কোচ কোম্যান। বাদ পড়েছেন স্টেফান ডি ফ্রাই, জেরেমি ফ্রিম্পং, ম্যাথিজ ডি লিট, জর্জিনিও উইনালডাম, জাভি সিমন্স ও জশুয়া জির্কজির মতো পরিচিত মুখ।
অন্যদিকে নতুন সুযোগ পেয়েছেন ক্রাইসেনসিও সামারভিল ও ম্যাটস উইফার। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় পর জাতীয় দলে ফিরেছেন মার্টেন ডি রুন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে নেদারল্যান্ডস বরাবরই শক্তিশালী দল হলেও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন তাদের অধরাই থেকে গেছে। এবার অভিজ্ঞতা ও তরুণদের সমন্বয়ে গড়া দল নিয়ে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে ফেরার আশা করছে ডাচরা।
গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। আগামী ১৪ জুন জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে রোনাল্ড কোম্যানের দল।
কালের সমাজ/এসআর

