রাজধানীর কাঁচাবাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে মুরগির দাম আবারও বেড়েছে। একই সঙ্গে দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া চালের দাম এখনও কমেনি। তবে পেঁয়াজ ও রসুনের বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন নেই। সবজির বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও কিছু পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। একইভাবে সোনালি মুরগির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া হাইব্রিড সোনালি ৩০০ টাকা, ডিমপাড়া লেয়ার ৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬২৫ থেকে ৬৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো বাজারে দেশি মুরগির দাম ৬৬০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওয়াদারের মতে সোনালী লেয়ার মুরগির দাম অল্প বেড়েছে। তাতে করে প্রান্তিক খামারী লাভবান হবে। কর্পোরেটের জাতাকল থেকে তাদের রক্ষা করতে হবে। খামারি ও বিক্রেতার কোন সিন্ডিকেট নেই। সিন্ডিকেডের জন্য দায়ী কর্পোরেট।
বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে। অতিরিক্ত গরমে বিভিন্ন খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে, যার কারণে বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে চালের বাজারে নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের বাড়তি দামই বহাল রয়েছে। বর্তমানে মিনিকেট চাল ৬৮ থেকে ৭২ টাকা, নাজিরশাইল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা এবং বিআর-২৮ বা মাঝারি মানের চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, মিল পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম কমানোর কোনো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।
সবজির বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম পুরোপুরি কমেনি। পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং বেগুনের মানভেদে ৬০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা হলেও দেশি শসার দাম ১০০ টাকার বেশি। এছাড়া গাজর ও কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা এবং সজনের ডাঁটা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের বাজারেও বর্ষার প্রভাব তেমন দেখা যায়নি। কলমি শাকের আঁটি ১০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, পুঁইশাক ও লাউশাক ৩০ টাকা এবং কচুশাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। কাঁচকি মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, বাইন ৮০০ টাকা, ছোট রুই ও কাতলা ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং বড় রুই-কাতলা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সিলভার কার্প ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২২০ টাকা, গ্রাস কার্প ২০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং দেশি কই ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট সাদা চিংড়ি ১ হাজার টাকা, মাঝারি গলদা ৮০০ টাকা এবং বড় সাদা চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বকরির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, দেশি রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, আমদানি করা বড় রসুন ১৮০ টাকা এবং আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আলুর দাম কিছুটা বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০ টাকায় পৌঁছেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে চাল ও মুরগির দাম বৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, আগে যে পরিমাণ চাল কেনা সম্ভব ছিল, এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না।
বাজার পরিদর্শনে আরও দেখা গেছে, অধিকাংশ বাজারে মূল্যতালিকা দৃশ্যমান নয়, যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তা প্রদর্শনের কথা। ফলে একই পণ্য বিভিন্ন বাজারে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হলেও ক্রেতারা প্রকৃত মূল্য যাচাই করতে পারছেন না।
তাদের অভিযোগ, নিয়মিত বাজার তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে বিক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করা গেলে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
কালের সমাজ/এএইচবি

