ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে মার্কিন সেনা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা গোপনীয়তার প্রাচীর ভেঙে গেল খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি অসতর্ক মন্তব্যে। ওয়াশিংটন এতদিন ধরে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য গোপন রাখলেও, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলনে ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরানের হামলায় ‘হাজার হাজার’ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলার দায় এড়াতে গিয়ে মুখ ফসকে মার্কিন প্রশাসনের এই চরম গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন তিনি।
বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাইন্সে জি-৭ সম্মেলনের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি জোলান কান্নো-ইয়ং ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, যুদ্ধের প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শতাধিক শিশু নিহতের ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কিনা।
এই স্পর্শকাতর প্রশ্নে মেজাজ হারিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্টো ইরানের ওপর দায় চাপাতে গিয়ে বলেন, "কেউ ওই কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি। কিন্তু আপনারা তাদের (ইরান) ব্যাপারে কী বলবেন? তারা যে গাড়ি বোমা মেরে আমাদের হাজার হাজার সেনাকে উড়িয়ে দিল, সেটার কী হবে? ইরান যে হাজার হাজার মানুষকে মারল, তা নিয়ে তো কথা বলছেন না!"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও বিস্ফোরক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর ঠিক কতজন সদস্য নিহত হয়েছেন, সেই সুনির্দিষ্ট তথ্য পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস সবসময়ই ধামাচাপা দিয়ে আসছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বিভিন্ন সময়ে নামমাত্র ও সীমিত হতাহতের দাবি করলেও, খোদ প্রেসিডেন্টের মুখে ‘হাজার হাজার সেনা উধাও’ হওয়ার এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এখন প্রধান শিরোনাম।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প অবশ্য মিনাবের স্কুলে হামলার ঘটনাটিকে `যুদ্ধকালীন অনিচ্ছাকৃত ভুল` হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "যুদ্ধে ভুলত্রুটি হতেই পারে। যুদ্ধ মানেই নির্মমতা। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।" এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দিকে আঙুল তোলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের মিনাবের ‘শাজারেহ তাইয়্যেবাহ এলিমেন্টারি স্কুল’-এ মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এতে ১২০ জন শিশু ও ২৬ জন শিক্ষকসহ ১৭৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। রয়টার্স ও স্কাই নিউজের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মার্কিন গোয়েন্দারা পুরোনো তথ্য ব্যবহার করে হামলা চালানোয় এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। প্রথমে এই হামলার দায় ইরানের ওপর চাপাতে চাইলেও, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তেই উঠে আসে যে এই বর্বর হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীই দায়ী।
সূত্র: ইয়াহু
কালের সমাজ//আরআই

