ঢাকা রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

কাতার ও বাহরাইন ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম কাতার ও বাহরাইন ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের মোট আটটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। দেশগুলো হলো— কাতার, বাহরাইন, ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর মধ্যে কাতারের আল উবেইদ ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।

এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে আল উবেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। অন্যদিকে বাহরাইনের ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) প্রধান কার্যক্রম কেন্দ্র।

তবে কাতার ও বাহরাইন থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিগুলোতে এখনো কোনো সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়নি। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এসব ঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এক কূটনৈতিক সতর্কবার্তার পরেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে পাঠানো এক চিঠিতে সংস্থাটিতে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সম্পদ ও অবকাঠামোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান।

এই চিঠির পরপরই কাতার ও বাহরাইনের ঘাঁটি থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। কেন কেবল কাতার ও বাহরাইনের ঘাঁটি থেকেই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে— এ বিষয়ে জানতে নিউইয়র্ক টাইমস সেন্টকমের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Side banner
Link copied!