যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের দিকে ধেয়ে আসতে শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরপরই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
এক বিবৃতিতে আইডিএফ সাধারণ জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “এই মুহূর্তে ইসরাইলি বিমান বাহিনী হুমকি প্রতিহত করতে এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা আঘাত হানতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।”
আইডিএফ আরও সতর্ক করে জানায়, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অপ্রতিরোধ্য নয়। তাই নাগরিকদের জন্য সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষিতে উত্তর ইসরাইলজুড়ে সাইরেন বেজে উঠছে। বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ কক্ষে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পাল্টা অভিযানের প্রস্তুতিও নিচ্ছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর কড়া হুঁশিয়ারি দেন ইরান সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা তোমাদের সতর্ক করেছিলাম। এখন তোমরা এমন এক পথে যাত্রা শুরু করেছ, যার শেষ আর তোমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।”
এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের অতি-সুরক্ষিত পাস্তুর এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ওই এলাকায় ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার বাসভবন অবস্থিত। তবে হামলার পর দ্রুতই রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/ওজি

