ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

আলু খেলে কি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

কালের সমাজ ডেস্ক | সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম আলু খেলে কি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

রান্নাঘরের সবচেয়ে পরিচিত উপাদানের একটি আলু। বিভিন্ন তরকারি রান্নায় আলুর ব্যবহার আমাদের দেশের প্রতিটি বাড়িতেই। বাচ্চা থেকে বয়স্ক, কম বেশি সবাই আলু খেতে পছন্দ করেন। তবে এই খাবারটির সঙ্গে ডায়াবেটিসের যোগসূত্রের কথা নতুন নয়। তাই অনেকেই ভাবেই হয়তো ডায়াবেটিস থাকলে আলু খাওয়া বাদ দিতে হবে। নাকি সঠিক পরিমাণ ও রান্নার পদ্ধতি মেনে এটি খাদ্যতালিকায় রাখা যায়? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।  

আলু আমাদের প্রতিদিনের রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি খাবার। ভর্তা, তরকারি, ভাজি কিংবা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বিভিন্নভাবে আলু খেতে ভালোবাসেন অনেকেই। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে, আলু কি রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই আলুকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। তবে পুষ্টিবিদ অমিতা গাদরের মতে, আলু নিয়ে এই ভয় বা বিভ্রান্তি দূর করা প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস থাকলে আলু খাওয়া যায় 
আলুতে জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকলেও এর প্রধান উপাদান হলো স্টার্চ। শরীরে এই স্টার্চ তুলনামূলক দ্রুত ভেঙে যায় এবং এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে আলু অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ আলু খেলে রক্তে শর্করা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, আলু খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কতটা আলু খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আলুর সঙ্গে কী খাচ্ছেন সেটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আলু খাওয়ার স্বাস্থ্যকর উপায়  
আলু খাওয়ার ক্ষেত্রে রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, আলু বেকিং, সেদ্ধ বা রোস্ট করে খাওয়া ভালো। এমনকি অতিরিক্ত তেল দিয়ে ভাজা আলু ভাল লাগলেও না খাওয়াই ভালো। তাই ফ্রেঞ্চ ফ্রাই যদি আপনার পছন্দ থাকে তাহলে সেটা বাদ ভালো হবে। কারণ এতে আলুর সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালোরিও যুক্ত হয়।

অন্যদিকে, এটাও মনে রাখতে হবে যে, সেদ্ধ বা বেক করলেই আলুর স্টার্চ আর রক্তে শর্করা বাড়াবে না, এমনটা নয়। রান্নার স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি অতিরিক্ত তেল কমাতে পারে, কিন্তু আলুর কার্বোহাইড্রেটের প্রভাব পুরোপুরি দূর করে না।

পুশ্তিবিদ শুধু আলু না খেয়ে এর সঙ্গে শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেন। যেমন, পরিমাণমতো আলুর সঙ্গে ডিম, মাছ, মুরগি বা ডাল এবং প্রচুর নন-স্টার্চি সবজি খাওয়া যেতে পারে। এতে পুরো খাবারের কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য ভালো রাখা যায়।

কোন ধরনের আলু তুলনামূলক ভালো?  
বাঁজারে বিভিন্ন ধরনের আলু পাওয়া যায়। আর সব আলুর পুষ্টিগুণ ও স্টার্চের পরিমাণ এক নয়। বিশেষজ্ঞের মতে, মিষ্টি আলু এবং কিছু ওয়াক্সি ধরনের আলু, যেমন কারিসমা ও নিকোলা, সাধারণ সাদা আলুর কিছু জাতের তুলনায় ভালো বিকল্প হতে পারে। এগুলোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম এবং স্টার্চের পরিমাণও কিছু ক্ষেত্রে কম।

তাই ডায়াবেটিস থাকলে আলু পুরোপুরি বাদ দিতে হবে বিষয়টা এমন নয়। বরং ভালো হয় চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া। তিনি আপনার খাদ্য তালিকায় আলু থাকবে কিনা আর থাকলেও সেটা কীভাবে খাবেন সে বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন।  সূত্র : এনডিটিভি 

Link copied!