ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খননের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক | মার্চ ১৬, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খননের সূচনা প্রধানমন্ত্রীর

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা করেন তিনি।

সাহাপাড়া খালের খনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি জেলায় এই কর্মসূচি শুরু হলো। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন করা হবে।

১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিনাজপুরের এই সাহাপাড়া খালটি খনন করেছিলেন। প্রায় পাঁচ দশক পর তার ছেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেই খালটিরই পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন। ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে যুক্ত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় এই এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। খালটি খনন হলে ফসল রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি মৎস্য চাষ ও সেচ সুবিধা বাড়বে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এই একটি খাল খনন সম্পন্ন হলে ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি এটি জিডিপিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশে সেচ সুবিধা ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতিতে খনন কার্যক্রম চালানো হবে। প্রতি কিলোমিটার খননে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে কাহারোলের বলরামপুরে আসেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পুরো এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। খাল খনন শেষে প্রধানমন্ত্রী রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক জনসভায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব), শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (পানিসম্পদ মন্ত্রী), আসাদুল হাবিব দুলু (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী) ও ফরহাদ হোসেন আজাদ (পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী)।

সরকার আশা করছে, এই মেগা প্রকল্পের ফলে খরা প্রবণতা কমার পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়বে, যা ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!