পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আগামীকাল সোমবার থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিস খুলছে। ফলে ছুটির শেষ দিনে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রেনে করে কর্মস্থলে ফিরছেন যাত্রীরা।
রোববার (৩১ মে) ভোর থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে রাজধানীতে ফেরা মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। একের পর এক আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীরা ঢাকায় ফিরলেও অতিরিক্ত ভিড়ের চিত্র দেখা যায়নি।
যাত্রীদের ভাষ্য, বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো চলাচল করেছে এবং যাত্রা ছিল স্বস্তিদায়ক। তবে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও নেত্রকোনা অঞ্চলের কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ঢাকায় পৌঁছেছে।
যাত্রীরা জানান, ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করলেও একক রেললাইনে বিভিন্ন স্থানে ক্রসিংয়ের কারণে পথে বিলম্ব হয়েছে। অন্য ট্রেনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে কিছু ট্রেনকে অপেক্ষা করতে হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সকাল থেকে কমলাপুরে পৌঁছানো ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ না থাকায় ভ্রমণ ছিল তুলনামূলক আরামদায়ক। এখন পর্যন্ত পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফেরা মানুষের সংখ্যা কম। জরুরি কাজ বা কর্মস্থলে যোগ দিতে যাদের প্রয়োজন, তারাই বেশি ফিরছেন বলে জানা গেছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার দেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে মোট ৬৬টি ট্রেন ঢাকায় আসবে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৩টি আন্তঃনগর এবং ২৩টি লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন। সোমবার থেকে ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলাচল শুরু হবে।
সকাল পৌনে ৮টায় কমলাপুর স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস পৌঁছায়। ট্রেনটিতে যাত্রীর চাপ ছিল স্বাভাবিক। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে সপরিবারে ফেরা আব্দুর রহমান বলেন, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে আবার ঢাকায় ফিরতে হয়েছে।
অন্যদিকে, সকাল সোয়া ৮টায় জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস সিলেট থেকে কমলাপুরে পৌঁছায়। এ ট্রেনের যাত্রী শাহাদাত হোসাইন জানান, ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই তাকে আগেভাগে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। যাত্রাপথে উল্লেখযোগ্য কোনো ভোগান্তি হয়নি বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া সরকারি ছুটির মেয়াদ রোববার শেষ হচ্ছে। সোমবার থেকে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরছে রাজধানী।
কালের সমাজ/ওজি

