ঢাকা রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন আশার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক | মে ৩১, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন আশার আলো

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের এক দশকেরও বেশি সময় পর বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সংশোধিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) অনুসারে অফশোর ব্লকগুলোর জন্য আবারও আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে পেট্রোবাংলা।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের তুলনায় অধিক বিনিয়োগবান্ধব ও আকর্ষণীয় শর্ত যুক্ত হওয়ায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়তে পারে। নতুন নীতিতে গ্যাসের মূল্য কাঠামো, পাইপলাইন ট্যারিফ এবং নির্দিষ্ট শর্তে রপ্তানির সুযোগসহ বেশ কিছু সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে অফশোর অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে সাতটি বহুজাতিক কোম্পানি নথি সংগ্রহ করেছিল। তবে সময়সীমা বাড়ানো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দেয়নি। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই পিএসসিতে সংশোধন এনে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন চুক্তির শর্তগুলো তাদের জন্য আরও অনুকূল হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এবার বেশি আগ্রহ দেখাতে পারে।

অন্যদিকে, উৎপাদন বণ্টন চুক্তি মূল্যায়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, শুধু দরপত্র আহ্বান করলেই হবে না, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও জরুরি। তার মতে, নতুন পিএসসি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ-উভয় পক্ষই লাভবান হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্র থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া। দরপত্র মূল্যায়ন, চুক্তি সম্পাদন, জরিপ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে। এরপর সম্ভাব্য ক্ষেত্র উন্নয়ন ও পাইপলাইন নির্মাণের কাজও সম্পন্ন করতে হবে।

ড. ম. তামিমের মতে, সব প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও বঙ্গোপসাগর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে আট থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে।

অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আবহাওয়াগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই পরিকল্পিত ও সতর্কভাবে এগোতে হবে।

পেট্রোবাংলার সংশোধিত পিএসসি অনুযায়ী, কোনো গ্যাসক্ষেত্রে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে তা ২৫ বছর পর্যন্ত চালানো যাবে। তেলক্ষেত্রের ক্ষেত্রে এ সময়সীমা ২০ বছর। প্রয়োজন ও সম্ভাবনা থাকলে উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদনের মেয়াদ আরও ১০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

 

কালের সমাজ/ওজি

Link copied!