জাতীয় সংসদের সদস্যরা স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সম্মান দেখাবেন বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকের শুরুতে এ বিষয়ে রুলিং দিয়ে স্পিকার বলেন, কার্যপ্রণালী বিধিতে একসময় থাকা ঝুঁকিয়া শব্দটি ২০০৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংসদে কয়েক দিন ধরে এ নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার এ সিদ্ধান্ত দিলেন।
স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৭(১) ধারায় বলা হয়েছে, সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদ-কক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং তার আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময়ে সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।
তিনি বলেন, এই বিধিতে আগে ঝুঁকিয়া শব্দটি ছিল। তবে ২০০৬ সালে তা সংশোধন করা হয়।
স্পিকার সংসদকে জানান, অষ্টম জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়। পরে একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সংসদে তা গৃহীত হয়।
এরপর সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেহেতু ঝুঁকিয়া শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে, মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আপনারা যারা যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।
গত সোমবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বিষয়টি সামনে আনেন।
তিনি বলেন, সংসদ কক্ষে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় অনেক সদস্য স্পিকারের চেয়ারের দিকে মাথা নত করে সম্মান জানান, কিন্তু ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের আচরণ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।
মুজিবুর রহমান সংসদকে স্মরণ করিয়ে দেন, কার্যপ্রণালী বিধিতে একসময় ঝুঁকিয়া শব্দটি থাকলেও পরে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই সংসদ সদস্যদের সালাম বা অন্য কোনো উপায়ে সম্মান জানানোর সুযোগ থাকা উচিত বলে তিনি মত দেন।
সেদিন স্পিকার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরে সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন।
বুধবার সংসদের বৈঠকে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুকও একই বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে এবং বিষয়টির একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।
ফারুক স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান, কার্যপ্রণালী বিধির আলোকে সংসদকে একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে। এর একদিন পর স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানালেন।
কালের সমাজ/এএইচবি

