ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বপরিসরেও অবদান রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

কালের সমাজ ডেস্ক | জুন ১৮, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম বিশ্বপরিসরেও অবদান রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই।

একই সঙ্গে বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে বাস্তবমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সেনাপ্রধান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দেশপ্রেমিক, দক্ষ, চৌকস ও মেধাবী সেনা কর্মকর্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখান থেকে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশে ও বিদেশে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অফিসার ক্যাডেটদের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, শপথগ্রহণের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে। এ দায়িত্ব পালনে সততা, শৃঙ্খলা, কর্তব্যবোধ ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে।

দীর্ঘ তিন বছরের প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিন, তানজানিয়া, জাম্বিয়া ও মালদ্বীপের সাতজন বিদেশি ক্যাডেটও সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। অন্যদিকে তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।

কুচকাওয়াজ শেষে সেনাপ্রধান প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। পরে নবীন কর্মকর্তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকেরা তাদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সেনাপ্রধান বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে নবগঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।

রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

কালের সমাজ//আরআই 

Link copied!