ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

জেলায় জেলায় লোডশেডিং

কালের সমাজ ডেস্ক | জুন ১৮, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম জেলায় জেলায় লোডশেডিং

তীব্র গরমের কারণে সারা দেশে লোডশেডিংয়ের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঢাকার বাইরের অঞ্চল; বিশেষ করে বরিশাল, গোপালগঞ্জ, গাজীপুর, সাতক্ষীরা এবং উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিদ্যুতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণেও উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদানুযায়ী প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে ভুগছেন ওইসব অঞ্চলের মানুষ।

সামনে এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীরাও পড়ালেখা করতে পারছেন না। জেলাগুলোতে ইন্টারনেটনির্ভর কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় জেলার বয়স্ক মানুষ, শিশু ও রোগীদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। আবার ফুটবল বিশ্বকাপ চলায় এসব অঞ্চলের মানুষ খেলা দেখতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা দ্রুততার ভিত্তিতে এই দুর্ভোগের প্রতিকার চান।

কুড়িগ্রামে বিপর্যস্ত জনজীবন, দ্রুত প্রতিকার চান ভুক্তভোগীরা

কুড়িগ্রামে তীব্র আকার ধারণ করেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের বেশির ভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। তীব্র গরমে জেলার লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এতে গৃহস্থালি কাজ, শিক্ষা কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। অনেকেই রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ ছাড়া ইন্টারনেটনির্ভর কাজ, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

নাগেশ্বরীর কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিদ্যুৎ কখন আসবে আর কখন চলে যাবে তার কোনো সময়সূচি নেই। ফলে দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার এজিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি উৎপাদন ইউনিট বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এর প্রভাব কুড়িগ্রাম জেলার সব উপজেলাতেই পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের এ ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সংকট থাকলেও লোডশেডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষ অন্তত প্রয়োজনীয় কাজের পরিকল্পনা করতে পারবেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে লোডশেডিং কমাবে এবং গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করবে। একইসঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে চলমান সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

অন্ধকারে বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ড

বরিশালে গত এক সপ্তাহ ধরে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। পরিস্থিত মোকাবিলায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে নগরীতে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চাহিদার অর্ধেকও সরবরাহ পাচ্ছে না তারা। বরিশাল নগরবাসী অন্ধকারে থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত বাণিজ্য মেলা চলায় ক্ষুব্ধ অনেকে। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় হলো লোডশেডিংয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ড থাকে অন্ধকারে নিমজ্জিত।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আগামী ২ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া খুবই বিঘ্নিত হচ্ছে। কিন্তু বাণিজ্য মেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বহাল আছে। বিদ্যুৎ বিভাগ কি বলবেন?’ এমন ক্ষোভ এখন নগরের ঘরে ঘরে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে অন্তত আটবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খেলায় ছিল। এসব কারণে অফিসপাড়ায়ও কাজে ব্যাঘাত ঘটে।

জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটেও বিদ্যুৎ থাকে না। আরিফুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী জানান, মঙ্গলবার তিনি শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন অন্ধকার। মুমূর্ষু রোগীদের এই ইউনিটে বিকল্প বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ গেলে হাতপাখা, মোমবাতি, মোবাইলের আলোই একমাত্র ভরসা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালটিতে গত ১০ বছরে কয়েকশ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও আইসিইউতে একটি জেনারেটরের ব্যবস্থা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীরকে ফোন দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, তার আওতায় নগরের একাংশ ও ঝালকাঠি মিলে বিদ্যুতের চাহিদা ৯০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছেন ৫০ মেগাওয়াট। নগরের একাংশেই চাহিদা রয়েছে ৬৫ মেগাওয়াট। যে কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে পারছেন না।

বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত মালাকার জানান, তার আওতায় নগরের উত্তর অংশের চাহিদা ৪২ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পেয়েছেন মাত্র ২২ মেগাওয়াট। হঠাৎ কোনো পাওয়ার প্ল্যান্ট হয়তো বন্ধ আছে। যে কারণে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিডের বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ বলেন, জেনারেশন শর্টের কারণে বরিশালে ২০ থেকে ২৫ ভাগ লোডশেডিং হচ্ছে। আশা করা যায়, দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে তোলা যাবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু বলেন, এতটা ভয়াবহ লোডশেডিং কাম্য নয়। রাজধানী ঠিক রেখে সমবণ্টন হওয়া উচিত। শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউতে লোডশেডিং অগ্রহণযোগ্য। সেখানে অন্তত জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকা দরকার।

জামালপুরে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে না পেয়ে ক্ষোভ

জামালপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সংকট আরও প্রকট। ঘনঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। গরমে অসহনীয় কষ্টের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের কারণে চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচও নির্বিঘ্নে দেখতে পারছেন না। শহরের গ্রাহকদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকার বাসিন্দারা। দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। বর্তমানে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের অর্ধেকেরও কম পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, পিডিবির আওতায় থাকা এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে সাধারণত ঝড়বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়ার সময় দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকত। তবে এক সপ্তাহ ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

গ্রাহকরা বলছেন, প্রচণ্ড গরমে ঘনঘন লোডশেডিং জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলমান বিশ্বকাপের ম্যাচ না দেখতে পারার হতাশা। বিদ্যুৎ সরবরাহের এমন অনিশ্চয়তার কারণে কোনো ম্যাচই পুরোপুরি দেখা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক এলাকায় আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর টানা এক থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ আসার আগেই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা পুরো খেলাই শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই জেনারেটর ভাড়া করে বা বিকল্প উপায়ে খেলা দেখার চেষ্টা করছেন। এতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর থেকে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজীবপুর এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ওই দুটি উপজেলাসহ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৮০ মেগাওয়াট। কিন্তু চলতি মাসের শুরু থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট।

বকশীগঞ্জ উপজেলার বিলেরপাড় এলাকার হাবিবুর রহমান বলেন, গরমের কষ্ট কোনোভাবে সহ্য করে নেওয়া যায়। কিন্তু চার বছর পর আসা বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। গত এক সপ্তাহে লোডশেডিং এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে, একটি ম্যাচও পুরোপুরি দেখতে পারিনি। খেলার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। আবার আসার পর দেখা যায় ম্যাচ শেষ। অনেক সময় খেলা শুরুর আগেই বিদ্যুৎ থাকে না। এককথায় আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি।

মাদারগঞ্জের বালিজুড়ী এলাকার মোহাম্মদ বাবু মিয়া বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে তাদের মতো সাধারণ মানুষের কত আবেগ ও প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু তীব্র লোডশেডিং সেই আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে। খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পর বিদ্যুৎ চলে যায়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও গোল দেখার সুযোগ হারাতে হচ্ছে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের এই অনিশ্চয়তা আমাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. রাসেল মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎও পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা সত্যিই নিরুপায় হয়েই লোডশেডিং করছি। আমরা যা বিদ্যুৎ পাই, সেটাই সরবরাহ করি। বিশ্বকাপের বিষয়টি আমরাও বুঝি। আমাদের তো কিছুই করার নেই। রাতে এখন আরও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে।

কুমিল্লায় মোবাইল ফোন টাওয়ারে নেটওয়ার্ক বিভ্রাট

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় টানা চার দিন ধরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় উপজেলার প্রতিটি এলাকায় দিনে-রাতে দফায় দফায় লোডশেডিং চলছে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালগুলোতে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তীব্র গরমে এমনিতেই জনজীবন অতিষ্ঠ। তার ওপর ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা পড়ছেন বেশি বিপাকে।

গ্রাহকরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে কখন আসবে তার কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না। কয়েক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও তা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এর ওপর মিনিটে কয়েকবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় ফ্রিজ, টেলিভিশন, আইপিএস ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তারা আরো জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। গরমে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের টাওয়ারে নেটওয়ার্ক বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ায় জরুরি যোগাযোগেও সমস্যায় পড়ছেন মানুষ। অনলাইনে ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ (গৌরীপুর-দাউদকান্দি) জোনের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, পুরো দেশের একই অবস্থা। গত তিন-চার দিনে কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটিও আমাদের জানানো হয়নি।

হোমনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি চৌধুরী বলেন, হোমনায় বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট। কিন্তু আমাদের সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। ফলে একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর জন্যই লোডশেডিং হচ্ছে।

দাউদকান্দি গ্রিড সাবস্টেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রায়হান বলেন, চট্টগ্রামের একটি টার্মিনাল স্টেশন (গ্রিড সাব-স্টেশন) রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে, সম্ভবত এর প্রভাব সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ছে।

 

কালের সমাজ//আরআই 

Link copied!