দেশের সরকারি সেবা খাতে দুর্নীতির চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। বিশেষ করে পাসপোর্ট সেবা গ্রহণে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয় বলে ওঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর প্রতিবেদনে।
সংস্থাটির প্রকাশিত এক জাতীয় খানা জরিপ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাসপোর্ট সেবা নিতে গিয়ে ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষকে ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ প্রদান করতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে টিআইবি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘুষের হার বিবেচনায় সরকারি সেবা খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে পাসপোর্ট অফিস। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), যেখানে ৭৯ শতাংশ সেবাগ্রহীতা ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
এছাড়া বিচার-সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণে ৭১ শতাংশ এবং ভূমি সেবা পেতে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষকে ঘুষ দিতে হয়েছে।
টিআইবি জানায়, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালে দেশব্যাপী পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। জরিপে সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের অভিজ্ঞতা, দুর্নীতির ধরন এবং সেবাপ্রাপ্তির পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে এখনও দালালচক্র, মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহন নিবন্ধন, ভূমি সংক্রান্ত সেবা এবং বিচার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘুষ ও অনিয়মের প্রবণতা বেশি।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে ওঠে এসেছে, সেবাপ্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা, জবাবদিহির অভাব এবং কার্যকর তদারকির ঘাটতি দুর্নীতির অন্যতম কারণ। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা নিশ্চিত করতে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন করতে নাগরিকদের ঘুষ দিতে বাধ্য হতে হয়।
প্রতিবেদনে দুর্নীতি কমাতে সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন জোরদার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। টিআইবি মনে করে, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ হলে নাগরিকদের সরাসরি হয়রানি কমবে এবং ঘুষের সুযোগও সীমিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি সেবায় জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। টিআইবির এই প্রতিবেদন দেশের সেবা খাতে বিদ্যমান দুর্নীতির বাস্তব চিত্র আবারও সামনে এনে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
কালের সমাজ/এএইচবি

