জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলের সংকট নিরসনে বিশেষ বরাদ্দ প্রদানসহ ২১দফা প্রস্তাব অন্তর্ভূক্ত করার দাবিতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে গবেষণা সংস্থা ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) এবং নাগরিক সংগঠন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন। একই স্মারকলিপি পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে।
ডিআরডিএফ সভাপতি, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, উপকূলে প্রতিনিয়ত দুর্যোগ আঘাত হানছে। একইসঙ্গে লবণাক্ততা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেখানে সুপেয় পানি ও খাদ্য সংকট বেড়েছে। কৃষি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে।
এতে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় জনগণ, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, নাগরিক নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে উপকূলের জন্য সুনির্দ্দিষ্ট সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ ২১দফা প্রস্তাবনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাবসহ বেশকিছু প্রস্তাব অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। যা সংসদে বাজেট আলোচনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও বাজেট আলোচনায় তুলে ধরেছেন। বাজেট পাসের আগে উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ওই সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।
স্মারকলিপিতে উল্লিখিত ২১ দফায় বলা হয়েছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করতে হবে। সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন করতে হবে।
টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে হবে। প্রত্যন্ত উপকূলে সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে হবে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। সুন্দরবন সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ বিষয়ে শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রত্যন্ত এলাকা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। উপকূলের সংকট এখন শুধু দুর্যোগের বিষয় নয়; এটি জেলে, কৃষক, মৎস্যসম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির প্রশ্ন।
সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোট রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, আবহাওয়া সতর্কবার্তা, উদ্ধারব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা সময়ে যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি। সরকার বাজেট পাসের আগেই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কালের সমাজ/এএইচবি

