ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী সব জাহাজ ত্রুটিযুক্ত : ঝুঁকি নিয়ে করছে চলাচল

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী সব জাহাজ ত্রুটিযুক্ত : ঝুঁকি নিয়ে করছে চলাচল

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচলকারি পর্যটকবাহী জাহাজগুলোর কোনটির নেই শতভাগ নিরাপত্তা।এতে চলতি পর্যটন মৌসুমে অগ্নিকান্ড সহ নানা ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে এসব জাহাজ। চলাচলের অনুমতি পাওয়া প্রতিটি জাহাজেরই রয়েছে কোন না কোন ত্রুটি বা শর্তের লংঘন। আবার কোন কোনটির রয়েছে একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটিও।

সম্প্রতি সেন্টমার্টিনগামী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরই টনক নড়ে প্রশাসনের। ইতিমধ্যে চলতি মৌসুমে চলাচলের অনুমতি পাওয়া পর্যটকবাহী ৭ টি জাহাজের মধ্যে এমভি এলসিটি কাজল ও এমভি দি আটলান্টিক ক্রুজের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে । যার প্রেক্ষিতেই গত ৩০ ডিসেম্বর ভোররাতে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাটে পর্যটক যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে জাহাজগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়। এতে জাহাজগুলোতে নানা ত্রুটি ও শর্তের লংঘন শনাক্ত হয়েছে। এব্যাপারে কোস্টগার্ড নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিতভাবে প্রতিবেদন প্রদান করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে চলাচলকারি জাহাজগুলো হল- এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি, এমভি কেয়ারি সিন্দাবাদ, এমভি বে-ক্রুজার, এমভি কেয়ারি ক্রুজ এন্ড ডাইন ও এমভি দি আটলান্টিক ক্রুজ।

এসব জাহাজের উল্লেখ করা নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো হল- 
১. জাহাজগুলোরও মিনিমাম সেইফ ম্যানিং ডকুমেন্ট নেই এবং দুইজন মাস্টার ও দুইজন ড্রাইভার দ্বারা নৌযান পরিচালনার বিধান থাকলেও রয়েছে একজন করে।

২. ফায়ার ও সেইফটি প্ল্যান অনুযায়ী এলএসএ ও এফএফএ নেই এবং বেশিরভাগ জাহাজে পর্যাপ্ত সংখ্যক কার্যকরি লাইফ জ্যাকেট নেই।

৩. সার্ভে সার্টিফিকেটে প্রদত্ত মাস্টারের নামের সাথে জাহাজে কর্মরত মাস্টারের নামে মিল নেই।

৪. মেইন ইঞ্জিনের ওভার হলিং ডকুমেন্ট নাই।

৫. বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফায়ার পাম্প কার্যকরি অবস্থায় এবং পর্যাপ্ত পরিমান হোজ পাইপ পাওয়া যায়নি।

৬. ইঞ্জিনরুমে ফিক্সড কার্বণ ডাই-অক্সাইড সিস্টেম নেই।

৭. ফায়ার কন্ট্রোল প্যানেল, ফায়ার এলার্ম ও ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম কার্যকরি অবস্থায় পাওয়া যায়নি।

৮. জাহাজ পরিচালনাকারি মাস্টার ও ড্রাইভারগণের বেসিক ফায়ার ফাইটিং ট্রেনিং সার্টিফিকেট নেই।

এদিকে কোস্টগার্ডের প্রতিবেদনের আলোকেই সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারি পর্যটকবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তার ঝুঁকি সমূহ উল্লেখ করে নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে গত রোববার ( ৪ জানুয়ারি ) নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার এর অধিশাখার মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এতে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জাহাজগুলোর ত্রুটি ও বিচ্যুতি সমূহ সংশোধনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি ও বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করা না হলে পর্যটকবাহী জাহাজগুলোর চলাচলের অনুমতি বাতিল করা হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ নিয়ে প্রস্তাবিত কক্সবাজার নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াকিল জানান, কোস্টগার্ডের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের জারি করা প্রজ্ঞাপন দাপ্তরিকভাবে পাননি। তবে বিষয়টি অনানুষ্টিকভাবে অবহিত হয়েছেন। যৌথ অভিযানে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষও জাহাজগুলোতে নিরাপত্তার ঝুঁকি সমূহ পর্যবেক্ষণে পেয়েছে। আর প্রজ্ঞাপনটি হাতে আসার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান, নদী বন্দরের এ কর্মকর্তা।

Side banner
Link copied!