ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

বাড়তি শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত, ক্ষতির মুখে ধানের বীজতলা

মোঃ রমজান আলী, রাজশাহী ব্যুরো | জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম বাড়তি শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত, ক্ষতির মুখে ধানের বীজতলা

রাজশাহীতে গত কয়েকদিন থেকেই তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে। সোমবার ভোর থেকেই কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল পুরো নগরী ও আশপাশের উপজেলা। বাড়তি শীতের সঙ্গে কুয়াশার কারণে জনজীবন যেমন চরম দুর্ভোগে পড়েছে, তেমনি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন বোরো ধানের চাষিরা। কুয়াশায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সকাল থেকেই সূর্যের দেখা মেলেনি। ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে রাজশাহী নগরীর সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ছিল ধীরগতির। কুয়াশার কারণে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। শীতের প্রকোপে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চাইছেন না।

বাড়তি শীত ও ঘন কুয়াশায় গ্রামে গ্রামে ধানের বীজতলায় এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। জেলার পবা, গোদাগাড়ী, তানোর, মোহনপুর ও বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার কারণে ধানের বীজতলা হলদে হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় চারা পচে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এতে করে সময়মতো বোরো ধান রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।

পবা উপজেলার সাইদুল আলী নামের এক কৃষক বলেন, “বীজতলায় দিনের পর দিন রোদ না থাকলে চারা বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। কুয়াশা জমে থাকায় বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।” কৃষি অফিস জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ঘন কুয়াশা থাকলে বীজতলায় ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিতে পারে। এ কারণে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি নিষ্কাশন, বীজতলায় ছাই ছিটানো এবং সকালবেলা হালকা সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও পথশিশুরা। ভোরের দিকে রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে অনেককে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

নগরীর ইব্রাহিম হোসেন নামে এক রিকশাচালক জানান, ভোরে বের হলে হাত-পা জমে যায়। যাত্রীও কম, আয়ও কমে গেছে। রকিবুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন,“কুয়াশা ও শীতের কারণে মানুষ ঘর থেকে খুবই কম বের হচ্ছে। এ কারণে আমরা যাত্রী কম পাচ্ছি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে জমার টাকাই তুলতে পারছি না।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমাবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্ব্বোচ ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর বাতাসের আদ্রতা ছিল ৭৬ শতাংশ। আগামী কয়েক দিন শীত ও কুয়াশার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তবে বাড়তি শীত ও কুয়াশায় রাজশাহীতে একদিকে যেমন জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে কৃষিখাতে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কৃষকেরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের কার্যকর পরামর্শ প্রত্যাশা করছেন। একই সঙ্গে শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Side banner
Link copied!