যৌথ হামলার পর ইরান পালটা আক্রমণ শুরু করতে না করতেই নতুন এক সামরিক বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে-সস্তা ড্রোন বনাম ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের অসম লড়াই। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরাইলের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তেহরানের কম খরচে তৈরি ডেল্টা-উইং ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের হামলা প্রতিরোধ করা। সুলভ মূল্যের এ ড্রোনগুলো ঠেকাতে গিয়ে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চড়াদামি ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
৩.৫ মিটার দীর্ঘ শরীরে ৫০ কেজি ওজনের বিস্ফোরকবাহী তেহরানের একেকটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ৩৫ হাজার ডলার। অথচ সেটি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। এতে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পশ্চিমা সমরবিশারদরা। এপি।

ইউক্রেনের আকাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে আসা রণাঙ্গনের পরিক্ষীত এ ড্রোন এবার মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে ইরান। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ঝাঁপিয়ে পড়া মার্কিন বাহিনীকে ধরাশায়ী গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে ড্রোনগুলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫শ’র বেশি ড্রোন ছুড়ে শত্রু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার কৌশল ব্যবহার করছে। যার অধিকাংশই শাহেদ-১৩৬ মডেলের। ফলে একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখতে হচ্ছে প্রতিপক্ষকে। এতে ব্যয় ও চাপ দুটোই বাড়ছে।
ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ‘শাহেদ’ ড্রোন মজুত আছে। এছাড়া প্রতি মাসে অন্তত ৫০০ ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতাও রয়েছে দেশটির। ফলে দীর্ঘমেয়াদে হামলা চালানোর সামর্থ্য আছে ইরানের।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন : থাড-এর প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের দাম প্রায় দেড় কোটি ডলার এবং পুনরায় উৎপাদনে সময় লাগে কয়েক বছর। এ পরিস্থিতিতে কম খরচের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্পমূল্যের গাইডেড রকেট এবং ইসরাইলের আইরন বিম লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যা প্রতি শটে খুব কম খরচে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে। তবে এসব প্রযুক্তি এখনো সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুন মাসের সংঘাতেও (ইরান হামলায়) মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় মাত্র ১২ দিনে ইসরাইলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন প্রায় ১৫০টি ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। প্রতিটির দাম ছিল প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় উৎপাদনে তিন থেকে আট বছর সময় লাগে।
স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো ব্লুমবার্গকে বলেন, অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ইন্টারসেপ্টর নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা এগুলো তৈরির চেয়ে দ্রুত হারে ব্যবহার করে ফেলছি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে ২-৩টি ইন্টারসেপ্টর ছুড়তে হয়। যা মজুতকে দ্রুত শূন্য করে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখলে নির্ধারিত সময়ের আগেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কালের সমাজ/এসআর

