নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৫নং বিশা ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
চেয়ারম্যান মোঃ তোফাজ্জল হোসেন খাঁনের অভিযোগ, নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারক নং ০৫.৪৩.৬৫০০.১০৯.০১.০২২.২৪-৫৯০ (তারিখ: ২২-০২-২০২৬) অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে তিনি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ৫নং বিশা ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করতে যান। এ সময় স্থানীয় ২০-৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার পথরোধ করে এবং মব সৃষ্টি করে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাস্থলে তার সঙ্গে আহসানগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এস মঞ্জুরুল আলম, ৬নং মনিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সম্রাট হোসেন, ২নং ভৌপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নাজিম উদ্দিনসহ চেয়ারম্যান ফোরামের কয়েকজন সদস্য, দফাদার ও গ্রাম পুলিশ উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
চেয়ারম্যান মোঃ তোফাজ্জল হোসেন খাঁন বলেন, “বিগত সময়ে রাজনৈতিক মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করেছি। হাটের মধ্যে আমাকে মারধর করা হয়েছে। এছাড়াও গুমের শিকার হন তিনি। এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আলীগের দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করি। পরবর্তীতে একটি কুচক্রী মহল আবারও মব সৃষ্টি করে হামলা চালায়। চিকিৎসা শেষে মিথ্যা মামলায় জামিন নিতে গিয়ে আবারও কারাবরণ করতে হয়। এরপর আমজাদ হোসেন নামে এক ইউপি সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জেল থেকে বের হয়ে স্বপদে বহালের আবেদন করলে তদন্ত শেষে আমাকে যোগদানের চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু যোগদান করতে গিয়ে আবারও বাধার সম্মুখীন হই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যেন সঠিকভাবে আমার দায়িত্ব বুঝে নিতে পারি, সে জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আলাউল ইসলাম বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিশা ইউপি চেয়ারম্যান যোগদান করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। এছাড়া একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে ফৌজদারি অপরাধ বা অন্য কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।

