দিঘলিয়ায় কামারগাতি খাল পুনঃখনন ও আতাই নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের শুভ উদ্বোধন করলেন এমপি আজিজুল বারী হেলাল।
সোমবার (২ মার্চ-) বিকালে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নে কৃষি উন্নয়ন ও নদী ভাঙন রোধে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বিকেল বেলা পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্প দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। বিকেলের শুরুতেই তিনি বারাকপুর-দিঘলিয়া উপ-প্রকল্পের আওতায় কামারগাতি খালের ১ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এরপর তিনি মোমিনপুর এলাকায় আতাই নদীর ভাঙন রোধে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (JICA) সহযোগিতায় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৪৯১ মিটার দীর্ঘ নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজের ফলক উন্মোচন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সবসময় গ্রামবাংলার উন্নয়ন, কৃষকের কল্যাণ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই আজকের এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার কারণে এলাকার বহু খাল ভরাট হয়ে গেছে, ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে পরিকল্পিতভাবে খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষি জমিতে সঠিক সময়ে পানি পৌঁছায় এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খালগুলো সচল হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে, ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে।উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হারুন অর রশিদ আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, শরীফ ইকবাল হোসেন, এম সাইফুর রহমান মিন্টু, শরীফ মোজাম্মেল হোসেন, গাজী জাকির হোসেন এবং কুদরত-ই-এলাহী স্পিকারসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এরপর সংসদ সদস্য দিঘলিয়া ও সেনহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীগণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ফলক উন্মোচন শেষে এলাকার সার্বিক সমৃদ্ধি ও প্রকল্পের সফল সমাপ্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই উন্নয়নমূলক কাজগুলো শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

