পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়েরকাঠি এলাকায় বিরল শারীরিক গঠনের একটি বাছুরের জন্ম হয়েছে। বাছুরটির তিনটি চোখ ও দুটি নাক থাকায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) স্থানীয় বাসিন্দা ঝন্টু দাশের বাড়িতে বাছুরটি জন্ম নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝন্টু দাশের গাভীটি স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে বাছুরটির জন্ম দেয়। জন্মের পরপরই বাছুরটির মুখমণ্ডলে অস্বাভাবিক গঠন লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে দেখা যায়, বাছুরটির দুটি স্বাভাবিক চোখের মাঝখানে আরও একটি অতিরিক্ত চোখ রয়েছে এবং নাকের অংশে দ্বৈত গঠন দেখা যাচ্ছে।
বাছুরটির জন্মের খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে শত শত মানুষ ঝন্টু দাশের বাড়িতে ভিড় করেন। অনেকেই এটিকে ‘বিরল ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা আগে কখনো এমন গঠনের গরুর বাছুর দেখেননি।
বাছুরটির মালিক ঝন্টু দাশ বলেন, “সকালে গাভীটি বাছুর প্রসব করে। প্রথমে আমরা স্বাভাবিক ভেবেছিলাম। পরে কাছে গিয়ে দেখি বাছুরটির তিনটি চোখ ও দুটি নাক। বিষয়টি দেখে আমরা বিস্মিত হই। এখন প্রাণিসম্পদ বিভাগের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেছি।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার সিকদার বলেন, ভ্রূণ অবস্থায় কোষ বিভাজন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনের সময় কোনো জিনগত ত্রুটি বা পরিবেশগত প্রভাবের কারণে এ ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, “গর্ভাবস্থায় অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ প্রয়োগ, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বা হরমোন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার, কিংবা কৃত্রিম প্রজননের সময় জিনগত ত্রুটি থাকলেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে পরীক্ষার প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের বাছুর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার নজিরও রয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বাছুরটির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
এ ঘটনায় পুরো রায়েরকাঠি এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

