ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

কুলিয়ারচরে ২৬ দিন পর টয়লেট ট্যাংকে মিলল চার মাসের শিশুর মরদেহ

কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি | মার্চ ৩, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম কুলিয়ারচরে ২৬ দিন পর টয়লেট ট্যাংকে মিলল চার মাসের শিশুর মরদেহ

মাতৃস্তন্যপানের পর দোলনায় ঘুমিয়ে ছিল চার মাসের শিশু আশরাফুল। তারপর হঠাৎই নিখোঁজ। টানা ২৬ দিনের উৎকণ্ঠা, গুজব আর অপেক্ষার অবসান হলো এক হৃদয়বিদারক পরিণতিতে—বাড়ির পেছনের টয়লেট ট্যাংক থেকে উদ্ধার হলো তার পচাগলা মরদেহ। নিস্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো এলাকা।

ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি (কাঁঠালতলা) এলাকায়। শিশু আশরাফুলের বাবা শাহিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পর ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই পাতা ঝাড়ু দিতে যান। কিছুক্ষণ পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে এসে জানায়, দোলনায় ছোট ভাই নেই। মুহূর্তেই আনন্দময় ঘরজুড়ে নেমে আসে আতঙ্ক। ঘর, উঠান, আশপাশ—সবখানে খোঁজ করেও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজের পর এক প্রতিবেশী দাবি করেন, বোরকা পরা তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের হাতে একটি শিশু ছিল। এ বক্তব্যের পর এলাকায় শিশু চুরির আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। উৎকণ্ঠায় কেটেছে প্রতিটি দিন-রাত।

অবশেষে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাড়ির পেছনের টয়লেট ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে প্রথমে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। দীর্ঘদিন পানির ভেতরে থাকায় মরদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা-কুলিয়ারচর সার্কেলের এএসপি মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের ঘটনার পর থেকেই তদন্ত চলছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার জানান, প্রশাসন শুরু থেকেই বিষয়টি নজরে রেখেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শিশুটির দাদী অভিযোগ করেছেন, তার ছোট ছেলের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। তার দাবি, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। শিশুটির পিতা শাহীন একই অভিযোগ করেন।

তবে এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির চাচিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চার মাসের একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মসজিদ-মাদ্রাসা থেকে চায়ের দোকান—সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন, কীভাবে ঘটল এমন ঘটনা? স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Link copied!