মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন রোগীর চাপে যেন দম ফেলারও জায়গা নেই। ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৪০ জন রোগী। শয্যা সংকটে অধিকাংশ রোগীকেই ঠাঁই নিতে হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে। কোথাও চাদর বিছিয়ে, কোথাও স্বজনের কোলে মাথা রেখে নিচ্ছেন চিকিৎসা। তীব্র গরম আর অসহনীয় ভিড়ের মধ্যে বারান্দাই এখন রোগীদের শেষ আশ্রয়।
বুধবার (৬ মে) হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডেই রয়েছেন ভর্তি রোগী। বেডের পাশে অতিরিক্ত খাট ও আর জায়গা না থাকায় দ্বিতীয় তলার বারান্দা ও নিচতলার করিডোরজুড়েও রোগীদের অবস্থান। অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে স্যালাইন নিতে দেখা গেছে। শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ভর্তি ১৪০ রোগীর মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ, ৬৮ জন নারী এবং ৩৬ জন শিশু। ডায়রিয়া, বমি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথা ও বিভিন্ন ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যাই বেশি। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ফ্যান, আলো ও বাথরুম ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। ভোর থেকেই শৌচাগারের (বাথরুম) সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।
একজন রোগীর স্বজন বলেন, “হাসপাতালে এসে বেড তো দূরের কথা, বসার জায়গাটুকুও নেই। বাধ্য হয়ে বারান্দার মেঝেতেই রোগী নিয়ে পড়ে আছি। গরমে ছোট বাচ্চাটার খুব কষ্ট হচ্ছে।”
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০১৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেয়া হয়। একই বছরের ৩০ জুলাই নতুন ভবনের উদ্বোধনও করেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তবে প্রায় ১০ পূর্ণ হওয়ার পথে অথচ হাসপাতালটি এখনো সেই ৩১ শয্যার জনবল ও সীমিত সরঞ্জাম দিয়েই চলছে। ফলে অবকাঠামো বাড়লেও বাড়েনি সেবার সক্ষমতা।
চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে বাড়তি সময় কাজ করেও রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে লাখো মানুষের একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি কার্যত সংকটের মধ্যেই পড়ে আছে। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, “রোগীর চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। নতুন রোগীদের জায়গা দেয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম বাড়ানো জরুরি।”
কালের সমাজ/এসআর

