ঢাকা বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রাতারাতি নামবদল

পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত ‘সিরাজ উদ্যান’ নাম বদলে হয়ে গেল ‘শিবাজি উদ্যান’

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ৬, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত ‘সিরাজ উদ্যান’ নাম বদলে হয়ে গেল ‘শিবাজি উদ্যান’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় নাম পরিবর্তন ও দখল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যটির বারাসতে বাংলার শেষ নবাব সিরাজদৌল্লার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘সিরাজ উদ্যান’-এর নাম বদলে ‘শিবাজি উদ্যান’ করে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি ‘মসজিদবাড়ি রোড’-এর নামও পাল্টে দেয়া হয়েছে।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এই সময় বলছে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বারাসতের বিখ্যাত ‘সিরাজ উদ্যান’-এর নাম বদলে দিয়েছেন দলের কিছু কর্মী-সমর্থক। মঙ্গলবার (৫ মে) তারা পার্কটির নেমপ্লেট সরিয়ে নতুন করে নাম দেন ‘শিবাজি উদ্যান’।

এছাড়া বারাসত শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে কাঠগোলা এলাকায় একটি তোরণ তৈরি করেছিল বারাসত পৌরসভা। এলাকাটিতে একটি ধর্মীয় স্থান থাকায় তোরণটির নাম রাখা হয়েছিল ‘মসজিদবাড়ি রোড’। মঙ্গলবার সেটিরও নাম পরিবর্তন করে ‘নেতাজিপল্লি রোড’ লেখা হয়।

সংবাদমাধ্যম বলছে, তৃণমূল পরিচালিত বারাসত পৌরসভা ২০২২ সালে চাঁপাডালি মোড়ের কাছে তিতুমীর বাস টার্মিনালের পাশে একটি পার্ক নির্মাণ করেছিল। সেসময় পার্কটির নাম রাখা হয় ‘সিরাজ উদ্যান’। সেখানে শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ছাড়াও রয়েছে একটি ছোট জলাশয় ও বোটিংয়ের ব্যবস্থা।

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে, বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পথে বারাসতের ওই জলাশয়ের কাছে থেমেছিলেন এবং সেখানে তার ঘোড়া পানি পান করেছিল। ইতিহাসের সেই সূত্র ধরেই পার্কটির নাম রাখা হয়েছিল ‘সিরাজ উদ্যান’।

পার্কের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে বারাসত পৌরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, কয়েকজন বিজেপি কর্মী গিয়ে উদ্যানটির নাম বদলে দিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বিষয়টি বোর্ড মিটিংয়ে তোলা হবে। পরে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, দলের পক্ষ থেকে এমন কোনও নির্দেশ দেয়া হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ এটি করেছে, এর দায় দলের নয়।

এদিকে একই দিনে বাগদার হেলেঞ্চার বি আর আম্বেদকর শতবার্ষিকী কলেজে অখিল ভারত বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মীরা ছাত্র সংসদের অফিসে গঙ্গাজল ছিটিয়ে সেখানে গেরুয়া পতাকা টানিয়ে দেন। অখিল ভারত বিদ্যার্থী পরিষদ মূলত ভারতের কট্টর উগ্রপন্থি সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) আদর্শে অনুপ্রাণিত।

এছাড়া বাগদার রণঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত ও ডহরপোতা সমবায় সমিতিতে তালা লাগানোর অভিযোগও উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। পঞ্চায়েত ভবনের সামনে কালি দিয়ে বিজেপির নাম লিখে পদ্মফুল আঁকা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বাগদা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় প্রায় আধ ঘণ্টা পর তালা খুলে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি দিবাকর তরফদার বলেন, তারা এ ধরনের সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নন। গণতান্ত্রিক দেশে এমন কাজ গ্রহণযোগ্য নয়। যারা করেছে তারা ভুল করেছে এবং দলের পক্ষ থেকে এমন কোনও নির্দেশও দেয়া হয়নি।

অন্যদিকে ঠাকুরনগর বাজারেও অভিযান চালান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। কয়েকটি দোকানে তল্লাশি চালিয়ে গাঁজা ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করা হয়। পরে সেগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!