পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের আগামীর রূপরেখা কেমন হবে, তার স্পষ্ট আভাস দিয়ে রাখলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিলেন তরুণদের কর্মসংস্থানের এবং নারীদের নিরাপত্তার বার্তা। একই সঙ্গে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জেরে পশ্চিমবঙ্গে যে কোনও প্রকল্প থমকে থাকবে না, সেই আভাসও দিয়ে রাখলেন মোদি।
পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যে ভোটগণনার পরে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর থেকে বক্তব্য দেন নরেন্দ্র মোদি। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে তিনি বাঙালি সাজে হাজির হয়েছিলেন বিজেপির সদর দফতরে। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তব্যে প্রত্যাশিতভাবেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য ছিল মোদির বিশেষ বার্তা। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যপূরণ করতে যে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-কেও সঙ্গে চাই, তা বুঝিয়ে দিলেন জয়ের পরে প্রথম বক্তব্যে। স্পষ্ট করে দিলেন, ভারতের উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, তাল মিলিয়ে চলবে পশ্চিমবঙ্গ।

মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের জন্য ছাড়পত্র দেয়া হবে। বস্তুত, রাজ্য-কেন্দ্রের টানাপড়েনের জেরে এই স্বাস্থ্য প্রকল্পটি দীর্ঘ দিন পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হয়নি। তা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে এবং তারও আগে থেকে বার বার তৃণমূলকে বিঁধেছেন মোদি, অমিত শাহ এবং বিজেপির অন্য নেতারা। এবার পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু করার কথা বলে মোদি এ-ও বুঝিয়ে দিতে চাইলেন যে আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রকল্প থেকে ‘বঞ্চিত’ থাকবে না রাজ্যবাসী।
এবারের নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির বার বার নারীদের নিরাপত্তা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং অনুপ্রবেশ বন্ধ করার বিষয়ে সরব হয়েছেন। এবার পশ্চিমবঙ্গ-জয়ের পরেও রাজ্যবাসীকে সেই বার্তা দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। নারীদের নিরাপত্তা এবং যুবকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বিজেপির নতুন সরকার যে ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করবে, সেই আশ্বাসও দিলেন মোদি। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি পদক্ষেপের বার্তা দিয়ে রেখেছেন তিনি।

মোদির কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।” বিজেপির এই জয়কে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। মোদি প্রতিশ্রুতি দেন, “আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতের এমন একটি যাত্রার সূচনা হচ্ছে, যেখানে বিকাশ, অটুট বিশ্বাস পায়ে পা মিলিয়ে চলবে। আজ প্রত্যেক পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আশ্বাস দিচ্ছি, পশ্চিমবঙ্গের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বিজেপি দিনরাত এক করে দেবে। পশ্চিমবঙ্গে এখন মহিলারা সুরক্ষিত পরিবেশ পাবেন। তরুণদের কর্মসংস্থান হবে। অন্যত্র চলে যাওয়া বন্ধ হবে।”

পশ্চিমবঙ্গ-জয়কে যে বিজেপি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, তা সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সাজ থেকেই স্পষ্ট। সাদা পাঞ্জাবি, ধাক্কাপাড়ের কোরা ধুতি পরে বক্তব্য দিতে হাজির হন তিনি। বক্তব্যের সময়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজনৈতিক হিংসা এবং অশান্তি দূর করারও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদি বলেন, “পশ্চিমবাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে। এ বার বদলা নয়, বদলের কথা হবে। ভয় নয়, ভবিষ্যতের কথা হবে।” পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এই প্রথম বার ভয়ের বদলে গণতন্ত্রের জয় হল বলেও মনে করছেন তিনি।

মোদি আরো বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময়ে আগে হিংসা, ভয় এবং নিরপরাধদের মৃত্যুর খবর পাওয়া যেত। কিন্তু এবার গোটা দেশ এক অন্য ধরনের খবর পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। নির্বাচনী হিংসায় এক জনেরও মৃত্যু হয়নি- এমন ঘটনা এই প্রথমবার ঘটল। গণতন্ত্রের এই উৎসবে বন্দুকের আওয়াজ নয়, জনতা জনার্দনের কণ্ঠ শোনা গিয়েছে।”
পশ্চিমবঙ্গের সব রাজনৈতিক দলকে ‘নির্বাচনী হিংসার অভ্যাস’ বদলে ফেলারও পরামর্শ দেন নরেন্দ্র মোদি। সূত্র " আনন্দবাজার
কালের সমাজ/এসআর

