ঢাকা বুধবার, ০৪ মার্চ, ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ অস্ত্র নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি

কালের সমাজ ডেস্ক | মার্চ ৪, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ অস্ত্র নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান আবারও কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং এখনো তাদের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহার করা হয়নি। এমন বক্তব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানায়, বর্তমান সংঘাতকে তারা ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেন, “এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান কৌশলগতভাবে ধাপে ধাপে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের প্রথম পর্যায়েই সব উন্নত অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় না। অর্থাৎ, প্রয়োজন হলে আরও শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ এখনো ইরানের হাতে রয়েছে- এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের বার্তা, যার লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা।

অন্যদিকে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ভিন্ন দাবি তুলেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল কুপার। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এখন পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজারের বেশি ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছে।

জেনারেল কুপার দাবি করেন, এত বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের ফলে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। তার ভাষায়, বর্তমানে ইরান তাদের উৎক্ষেপণ সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো স্বীকারোক্তি আসেনি।

দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য স্পষ্ট করছে যে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি তথ্যযুদ্ধও সমান তালে চলছে। একদিকে ইরান নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও অব্যবহৃত উন্নত অস্ত্রের কথা তুলে ধরে কৌশলগত শক্তির বার্তা দিচ্ছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সক্ষমতা ক্ষয়ে যাওয়ার দাবি করছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একথা স্পষ্ট—উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের পরিবর্তে আরও দীর্ঘায়িত সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কালের সমাজ/এসআর

ভিনদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!