মেসির জোড়া গোলে ইতিহাস, নকআউটে আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের রাতগুলো কখনও কখনও একজন মানুষের নামেই লেখা হয়। ডালাসের এই রাতটাও তেমনই। পেনাল্টি মিসের হতাশা পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি। হলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার। পরে করলেনও আরও একটি গোল। জেতালেন দলকে।
ডালাসে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’র ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে দুটি গোলই করেন মেসি। এই জয়ে টানা দ্বিতীয় জয় নিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত হলো লিওনেল স্কালোনির দলের।
ম্যাচে প্রথম গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন মেসি। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে এককভাবে সিংহাসনে বসলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ডালাসের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের নবম মিনিটে পেনাল্টিতে গোল মিস করেন মেসি। তবে সেই হতাশা মুছে ফেলে ৩৮ মিনিটে অসাধারণ এক গোল করেন তিনি। বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার ক্রসে ডামি করেন থিয়াগো আলমাদা। এরপর মেসির বাঁ পায়ের শট অস্ট্রিয়ার জালে বল জড়ান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
পুরো স্টেডিয়াম তখন অপেক্ষায়। মেসির সামনে ছিল ইতিহাসের দরজা। কিন্তু ৯ মিনিটে তার পেনাল্টি ডান পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। মুহূর্তের জন্য স্তব্ধতা নামে। যে পায়ে এত গল্প লেখা হয়েছে, সেই পা-ই যেন একটু থেমে গেল তবে মেসির গল্প কখনও এত সহজে থামে না।
পেনাল্টি মিসের পরও ম্যাচের সুর ধরে রাখে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়া মাঝেমধ্যে আক্রমণে উঠেছে, কিন্তু শেষ তৃতীয়াংশে ছিল না সেই ধার। ২৩ মিনিটে মার্সেল সাবিৎসারের শট রোমেরোর পায়ে লেগে কর্নার হয়। ৩২ মিনিটে প্রায় খালি গোলের সামনে মেসির শট ঠেকিয়ে দেন কেভিন ডানসো।
এরপর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, যার জন্য অপেক্ষায় ছিল সবাই। ৩৮ মিনিটে বাঁ দিক থেকে গড়া আক্রমণে বল আসে মেসির কাছে। একটু পেছন থেকে বক্সে ঢুকে নিচু শটে বল পাঠান কোণে। এবার কোনো ভুল নেই। বল জালে যেতেই মেসি জায়গা করে নেন ইতিহাসে।
বিশ্বকাপে ১৭তম গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। বিশ্বকাপের গোলের রাজা এখন মেসি। একই সঙ্গে টানা ছয় বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা ফুটবলারদের ছোট তালিকাতেও নাম লেখান তিনি।
বিরতির আগে আর্জেন্টিনা বল ধরে রাখে। অস্ট্রিয়া চেষ্টা করলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্ষণে বড় ফাটল ধরাতে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া একটু বেশি বল পেতে শুরু করে। তবে বল পেলেই যে বিপদ তৈরি হয়, তা নয়। আর্জেন্টিনার রক্ষণ বক্সের সামনে এসে বারবার দেয়াল তুলে দাঁড়ায়। ৫৬ মিনিটে সাবিৎসারের ফ্রি-কিক ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস। সেটিই ছিল অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে পরিষ্কার সুযোগগুলোর একটি।
৫৯ মিনিটে হাঁটুর সমস্যায় রোমেরোকে তুলে নামানো হয় নিকোলাস ওতামেন্দিকে। এরপর রক্ষণে আরও ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। কিছুক্ষণ পর মাঠে আসেন হুলিয়ান আলভারেস ও নিকোলাস গনসালেস। শেষ দিকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকেও নামান স্কালোনি।
অস্ট্রিয়াও পরিবর্তন আনে। মার্কো আরনাউতোভিচ, আলেক্সান্ডার প্রাস, মার্কো ফ্রাইডল, প্যাট্রিক ভিমার, কার্নি চুকুয়েমেকাদের নামিয়েও তারা ম্যাচের দরজা খুলতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ভিমারের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। সেটিই ছিল অস্ট্রিয়ার শেষ আশা।
তারপর আবার মেসি...যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দ্রুত আক্রমণে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে যান আলভারেস। তার শট ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক। ফিরতি বল আসে মেসির কাছে। সামনে কয়েকজন ডিফেন্ডার। প্রথম শট আটকে গেলেও দ্বিতীয় চেষ্টায় ডানসোকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
এই বিশ্বকাপে এটি মেসির পঞ্চম গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৮তম। রেকর্ড ভাঙার রাতে জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকেও হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি গিয়েছিলেন, তবে বল অল্পের জন্য বাইরে যায়। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। শেষ ৩২ নিশ্চিত করে তারা একরকম উড়তে থাকে।
কালের সমাজ/এসআর

