ঢাকা রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

যে পরিসংখ্যান বলছে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক | জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম যে পরিসংখ্যান বলছে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের মঞ্চে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নের খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তবে এই মহারণের আগে লিওনেল মেসিদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এখনো হারেনি আর্জেন্টিনা।

২০১৮ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেয়ার পর স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার অধীনে দলটি শুধু কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপই জেতেনি, ইউরোপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষেও গড়ে তুলেছে দুর্দান্ত এক রেকর্ড। এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর বিপক্ষে ১১টি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছে, বাকি ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে কোনো ম্যাচেই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়নি।

এই রেকর্ডের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় নিঃসন্দেহে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল। শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ৩-৩ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ফ্রান্সকে হারিয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। স্কালোনির অধীনে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেটিই ছিল সবচেয়ে ঐতিহাসিক জয়।

May be an image of football, soccer and text

একই বছরে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে আলবিসেলেস্তেরা। ইউরো ও কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ফিনালিসিমা ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আরও একটি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। ওয়েম্বলির সেই ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়েছিল স্কালোনির দল।

দক্ষিণ আমেরিকার দল হওয়ায় ইউরোপীয় প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ খুব বেশি পায় না আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ, ফিনালিসিমা কিংবা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচই মূলত এমন লড়াইয়ের মঞ্চ। স্কালোনির অধীনে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে খেলা ১১ ম্যাচের মধ্যে চারটি হয়েছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে এবং তিনটি হয়েছে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে। বাকি ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও ফিনালিসিমায়।

স্কালোনির এই অপরাজিত যাত্রায় কয়েকটি ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের বিপক্ষে দুই নকআউট লড়াই নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ড্র হলেও টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ফলে আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে ম্যাচ দুটি ড্র হিসেবে গণ্য হলেও নকআউট পর্বে শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর হাসি ছিল আর্জেন্টিনার মুখেই।

May be an image of soccer, football and text that says ‍‍`16e-0a Google GoogleGerin Genin Googlee Googlec gie‍‍`

শুধু জাতীয় দলের কোচ হিসেবেই নয়, স্কালোনির ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সফলতার ইতিহাস আরও আগে থেকেই শুরু। আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্বে থাকাকালে ইউরোপের একমাত্র প্রতিপক্ষ রাশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিলেন তিনি। খেলোয়াড়ি জীবনেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন স্কালোনি। একটি ছিল জার্মানির বিপক্ষে ড্র এবং অন্যটি হাঙ্গেরির বিপক্ষে জয়।

ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। স্কালোনির অধীনে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে না হারার রেকর্ড যেমন আলবিসেলেস্তেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনি লাতিন আমেরিকার ফুটবল দর্শন ও খেলোয়াড় তৈরির ঐতিহ্যেরও আরেকটি বড় পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে আছে দলটি। এখন দেখার বিষয়, এই দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখে স্পেনকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলতে পারে কি না আর্জেন্টিনা।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!