ঢাকা শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

ম্যামো দেখে জব্দ ৭হাজার লিটার তেল

জেলা প্রতিনিধি,শরীয়তপুর | এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম ম্যামো দেখে  জব্দ ৭হাজার লিটার তেল

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা ডিজেল নিলামে বিক্রি সময় মাপতে গিয়ে কম পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয়, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, গত ৩১ মার্চ রাতে ৭ হাজার লিটার ডিজেল তেলবাহী লরির মাধ্যমে বরিশালের ডিপো থেকে ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে পাঠানো হলে তা অবৈধভাবে এক ব্যবসায়ী নিয়ে আসেন শরীয়তপুরে। পরে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ওই তেলসহ লরীটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নড়িয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস। 

এরপর সেই ডিজেলে ২ এপ্রিল বিকেলে নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেন শরীয়তপুরের মনোহর মোড় এলাকার মেসার্স হাজী আব্দুল জলিল ফিলিং স্টেশন। তবে তাদের কাছে টাকা না থাকায় সেই ডিজেল ওই লাইসেন্সের মাধ্যমে কিনে নিয়ে নেন নড়িয়ার স্থানীয় ব্যবসায়ী লতিফ শেখ। ৭ হাজার লিটারের ডিজেলের দাম ধায্য করা হয় ৭ লাখ টাকা। তবে তিনি তখন ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা রাখেন। পরবর্তীতে মাপা হলে সেখানে ৪ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল পাওয়া গেলে সেখান থেকে ৭০ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়। তবে প্রশ্ন উঠেছে জব্দ করা তেল থেকে ২ হাজার ২০০ লিটার তেল কম হওয়া নিয়ে। এদিকে তেল কম হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে ধুম্রজাল।

 

বিষয়টি নিয়ে ক্রেতা লতিফ শেখ বলেন, তেলের মূল্য ৭ লাখ নির্ধারণ করা হলেও আমরা মেপে আনার আগে পুরো টাকা পরিশোধ করিনি। যখন মাপা হয় তখন যে টাকা জমা দিয়েছি তার থেকেও কম তেল পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে প্রশাসন থেকে আমাদের বাকিটাকা ফেরত দেয়া হয়।


তেল কম হওয়ার বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী দাস বলেন, আমরা অভিযানে যা তেল পেয়েছি তা ম্যামো আর ব্যবসায়ীর কথা অনুযায়ী আনুমানিক ৭ হাজার লিটার ধরেছি। তবে এখানে নিয়ে আসার আগেই তেল পথে তারা বিক্রি করেছে কি-না তা আমাদেরকে জানানো হয়নি। আমরা পুরো লরি এনে পরে সেখান থেকে আনলোড করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করেছি তখন আমরা পেয়েছি ৪হাজার ৮০০ লিটার । এখন যদি তেল কম হয় সেগুলো আমাদের জানার কথা না। আমাদের অভিযানের পর কোনোভাবেই তেল সরানো হয়নি। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে লরিসহ তেল থানায় রেখেছি।


এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ভোজেশ্বর বাজার থেকে ৭ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু নিলামের সময় ২ হাজার ২০০ লিটার কম পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, কেউ তেল সরিয়েছে কি-না। সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কালের সমাজ/ কে.পি

Link copied!