নওগাঁর ধামইরহাটে ৫ম শ্রেণির এক শিশুকে (১১) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত আসামি ফারুক হোসেনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১০ এপ্রিল বিকেলে উপজেলার উত্তর চৌঘাট এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি উত্তর চৌঘাট আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। গত ১০ এপ্রিল বিকেলে অভিযুক্ত ফারুক হোসেন বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শিশুটি বাধা দিলে পাষণ্ড ফারুক তাকে গাছের ডাল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত ও জখম করে। পরবর্তীতে শিশুটির আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত ফারুক হোসেন (৪০) ধামইরহাট থানার বস্তাবর এলাকার চৌঘাট (কাগজকুটা) গ্রামের মোঃ মোজাহার আলীর ছেলে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ভায়োলেন্স বা যৌন হয়রানি জেলা পুলিশ কঠোর হস্তে দমন করবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল ধিক্কার জানিয়ে ঘাতক ফারুক হোসেনের সর্বোচ্চ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
আসামি পুলিশের হেফাজতে, শিশুটি চিকিৎসাধীন।
কালের সমাজ/এসআর

