ঢাকা রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২

চাঁদপুরে অবৈধ বালি উত্তোলন, প্রতিরোধে ফুসে উঠেছে  নদী তীরবর্তী এলাকার জনগন

জেলা প্রতিনিধি, চাঁদপুর | এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম চাঁদপুরে অবৈধ বালি উত্তোলন, প্রতিরোধে ফুসে উঠেছে  নদী তীরবর্তী এলাকার জনগন

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃচাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙনের ভয়াবহ ঝুঁকিতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়ায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকার হাজী নগর সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, কৃষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।

হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন সভাপতি শাহাদাত মিয়াজি ও সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে চরভৈরবী এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও অজ্ঞাত কারণে এই কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান  বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিদিনই নদী ভাঙছে, আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় কৃষক বিল্লাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা জীবিকা হারানোর পথে। অথচ অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষকরা জানান, এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয় ভবনসহ আশপাশের অবকাঠামো ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।

বক্তারা আরও বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে শুধু নদীভাঙনই নয়, পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি মাছের উৎপাদনেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। 

 

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!