ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত, হল ছাড়ার নোটিশ

জেলা প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ | এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম ময়মনসিংহ মেডিকেলে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত, হল ছাড়ার নোটিশ

‎ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। ‎আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

‎শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতের এ ঘটনার পর শনিবার থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে আগামী ৭ দিনের জন্য সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‎আহত শিক্ষার্থীরা হলেন মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর। তারা দুজনই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে।

‎পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে মুয়াজ মীর হামিদুরের কক্ষে যান। সেখানে বাইকে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে মীর হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হামিদুরের পক্ষের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন। পরে মুয়াজকে উদ্ধার করতে তার পক্ষের লোকজন এগিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

‎ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, রাতভর চিকিৎসা নেওয়ার পর শনিবার সকালে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মীর হামিদুর বর্তমানে হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুজনেরই মাথায় আঘাত লেগেছে।

‎ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা য়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। 

‎এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার অনুষ্ঠিত জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৭ দিনের জন্য সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান জানান, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!