ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু

কালের সমাজ ডেস্ক | এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
ফাইল ছবি

দেশের ছয় জেলায় একদিনে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জে, যেখানে হাওরে ধান কাটার সময় ৫ জন নিহত হন।

শনিবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনায় সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের অধিকাংশই কৃষিকাজ ও মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জে ৫ জনের মৃত্যু
সুনামগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের সময় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলার ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও দিরাই উপজেলার হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। স্ব-স্ব থানা-পুলিশ আহত ও নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বজ্রপাতে নিহতরা হলেন- ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে হবিবুর রহমান (২২), উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (১৪), দিরাই উপজেলার পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (৩৮), তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবুল কালাম (২৮) এবং জামালগঞ্জের সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান।

স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুর ১টার দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ জন নিহতের পাশাপাশি ৪-৫ জন আহত হয়েছেন। হবিবুর রহমান ও লিটন মিয়া ধান কাটতে গিয়ে, রহমত উল্লাহ বাড়িতে কাজ করার সময়, আবুল কালাম হাঁসের খামারে কাজ করার সময় এবং হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান নিহত হন। নিহতদের তাৎক্ষণিক স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে হবিবুর রহমান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

দিরাইয়ে বজ্রপাতে নিহত লিটন মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার।

ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহ জানিয়েছেন, বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ থানা হেফাজতে আছে। বিধি মোতাবেক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তাহিরপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম একজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আবুল কালামের মরদেহ পরিবারের হেফাজতে আছে। অভিযোগ পেলে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নুরুজ্জামানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ময়মনসিংহে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু
শনিবার দুপুর ২টার দিকে গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহতরা হলেন- গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামর ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের প্রয়াত সেকান্দর আলী খান মমতাজ আলী খান (৫৮)।

২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, নিহত রহমত আলী উজ্জল মুদি দোকানি। দুপুরে বজ্রপাতের সময় ধান ক্ষেত দেখতে পুর্বানাপাড়া গ্রামে যান। সেখানে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় উজ্জল। পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। নিহতের দাফনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গৌরীপুর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, বজ্রপাতে এক যুবক মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, নিহত মমতাজ আলী খান উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। মমতাজ আলী খান জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রংপুরে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ২ জেলের মৃত্যু
রংপুরের মিঠাপুকুরে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে ২ জেলের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত দশজন। মিঠাপুকুর থানার ওসি নুরুজ্জামান জানান, উপজেলার বড় হযরতপুর এলাকার সখিপুরে শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার রামেশ্বর পাড়া গ্রামের মাঝিপাড়া এলাকার মিলন মিয়া (৩৫) এবং সখিপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।

সখিপুর গ্রামের রমজান আলী বলেন, গ্রামের তানজিমুল ইসলাম গোল্ডেনের একটি পুকুরে মাছ ধরার কাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন মাছ ধরছিলেন, আর কয়েকজন পাড়ের একটি টং ঘরে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অন্তত দশজন। তাদের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

নেত্রকোণায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু
আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওড়ে বজ্রপাতে এক কৃষক মারা গেছেন। নিহত আলতু মিয়া (৬৫) একই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

আটপাড়া থানার ওসি মো. জুবায়দুল আলম বলেন, দুপুর ১টার দিকে মেষি হাওড়ে গরুর জন্য ঘাস কাটছিলেন আলতু মিয়া। এ সময় বৃষ্টিসহ বজ্রপাত হয়। পরে স্থানীয়রা হাওড়ে গিয়ে আলতু মিয়ার মরদেহ পরে থাকতে দেখেন।

কিশোরগঞ্জে বজ্রপাতে শ্রমিকের মৃত্যু
করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিক মারা গেছেন। করিমগঞ্জ থানার ওসি এমরানুল করিম বলেন, শনিবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হেলাল মিয়া (৩৮) উপজেলার কলাবাতা গ্রামের বাসিন্দা।

হবিগঞ্জে কৃষকের মৃত্যু
নবীগঞ্জ উপজেলায় বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, নিহত সুনাম উদ্দিন (৬০) উপজেলার রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে।

বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া জানান, সুনাম উদ্দিন সকালে হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

 

কালের সমাজ/ওসমান

Link copied!