হরমুজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী একটি ভারতীয় ট্যাংকারে গুলি ছুঁড়েছে ইরানি নেভি বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে হিন্দুস্তান টাইমস দাবি করেছে, গুলি ছোঁড়ার সময় হরমুজে অবস্থান করছিলো ২টি জাহাজ—‘জাগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাগ অর্ণব লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। তবে, একই এলাকায় থাকা `সানমার হেরাল্ডে` কোনো হামলা হয়নি এবং সেটি অক্ষত রয়েছে।
একইসাথে টাইমস অব ইন্ডিয়া দাবি করেছে, এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই হরমুজ প্রণালি থেকে ২টি ভারতীয় জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে খবর আসে।
ভারতীয় নৌবাহিনীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রু ও জাহাজ নিরাপদ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জাহাজটির পরিচয় বা গন্তব্য সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে দেশটির নৌবাহিনী কর্মকর্তারা।
এদিকে, ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম জানিয়েছে, ঘটনার পর একাধিক জাহাজ দিক পরিবর্তন করে ফিরে গেছে। এর মধ্যে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী সুপারট্যাংকারও রয়েছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে ভারতের কোনো যুদ্ধজাহাজ নেই। তবে ওমান উপসাগরে দুটি ডেস্ট্রয়ার, একটি ফ্রিগেট ও একটি ট্যাংকার মোতায়েন রয়েছে।
কিছুদিন পূর্বেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগেই জানিয়েছিল, ভারতকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভারতের মতো `বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলো` নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির এমন স্পষ্ট বার্তা এবং ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে সম্বোধনের পর এমন হামলা দু`দেশের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে, হরমুজে ভারতীয় ট্যাংকারে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কিছু জানায়নি ইরান।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছে দুইটি ইরানি গানবোট। তেলবাহী ট্যাংকারটি ঠিক কোন দেশের, সেই তথ্য তাত্ক্ষণিকভাবে জানায়নি আল জাজিরা, ইরান ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
একুশে সংবাদ/ওজি

