ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

পিএসএলের প্লে-অফে পেশোয়ার জালমি, ঢাকায় ব্যস্ত শরিফুল-নাহিদ

স্পোর্টস ডেস্ক | এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৩:২০ পিএম পিএসএলের প্লে-অফে পেশোয়ার জালমি, ঢাকায় ব্যস্ত শরিফুল-নাহিদ

ঢাকায় জাতীয় দলের হয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামার পরও তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি দল পেশোয়ার জালমি পিএসএলে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে।

পেশোয়ার জালমির হয়ে সর্বশেষ ম্যাচটি এই দুই বাংলাদেশি পেসার খেলেছিলেন ১৩ এপ্রিল, মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে ২৪ রানের জয়ে পেশোয়ারের প্লে-অফের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। এরপর তারা জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের জন্য দেশে ফিরে আসেন।

জাতীয় দলের ব্যস্ততার মধ্যেই গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নামেন শরিফুল ও নাহিদ। একই দিন তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি দল পেশোয়ার জালমি প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলে।

লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে কোয়েটার জয়ের ফলে পেশোয়ার জালমি প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফে জায়গা করে নেয়। ম্যাচটি তারা জিতেছে ৬ উইকেটে। টুর্নামেন্টের শুরুটা দারুণভাবে করা পেশোয়ার প্রথম ৬ ম্যাচে ছিল অপরাজিত। এরপর আরও একটি ম্যাচ জিতে তারা নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে তোলে।

৭ ম্যাচ শেষে পেশোয়ারের পয়েন্ট দাঁড়ায় ১৩। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় তাদের অবস্থান আরও সুবিধাজনক হয়ে যায়। ফলে অন্য দলগুলোর ফল যাই হোক না কেন, শীর্ষ চার নিশ্চিত করেছে পেশোয়ার।

প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত হলেও এখনো বাকি দলগুলোর লড়াই জমে উঠেছে। পেশোয়ারের পরেই অবস্থান করছে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, যাদের পয়েন্ট ৯। এরপর রয়েছে মুলতান সুলতানস ৮ পয়েন্ট নিয়ে। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স, করাচি কিংস ও অন্যান্য দলগুলো ৬ পয়েন্ট করে নিয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে। লাহোর কালান্দার্সের পয়েন্টও সমান হলেও তারা তুলনামূলক কম ম্যাচ খেলেছে। অন্যদিকে রাওয়ালপিন্ডি এখনো কোনো জয় পায়নি।

পেশোয়ার জালমির এই সফলতার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন কুশাল মেন্ডিস, সুফিয়ান মুকিম, বাবর আজম ও ইফতিখার আহমেদ। মেন্ডিস ও বাবর ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। মেন্ডিস ৬ ইনিংসে ৩৩০ রান করে আসরের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে আছেন, আর বাবর ৩০১ রান নিয়ে আছেন তার ঠিক পরেই।

বল হাতে দারুণ ছন্দে আছেন সুফিয়ান মুকিম, যিনি ১৬ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ইফতিখার আহমেদও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তিনি এখন পর্যন্ত ১০ উইকেট নিয়ে আছেন সেরা বোলারদের তালিকায় শীর্ষে।

বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানাও পেশোয়ারের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সব ম্যাচ না খেললেও তিনি এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন। তার বোলিং গড় ১০.৮৫ এবং ইকোনমি রেট ৫.৪২। একটি ম্যাচে মাত্র ৩ ওভারে ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার মতো দারুণ স্পেলও রয়েছে তার নামের পাশে।

অন্যদিকে শরিফুল ইসলামের আসরটি এখন পর্যন্ত প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তিনি ৫ ম্যাচে মাত্র ২টি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ একসঙ্গে সামলানোর কারণে তার ওপর চাপ ছিল বেশি।

সব মিলিয়ে জাতীয় দলের ব্যস্ততা থাকলেও পিএসএলে পেশোয়ার জালমির প্লে-অফ নিশ্চিত হওয়া বাংলাদেশের দুই পেসারের জন্য একদিকে যেমন স্বস্তির খবর, তেমনি তাদের পারফরম্যান্স ঘিরে আলোচনা এখনো চলমান।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!