ঢাকা রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

সন্ত্রাসী বাদশা চক্রের আতঙ্কে বিজেশ্বর গ্ৰামবাসী

আমিনুল ইসলাম আহাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম সন্ত্রাসী বাদশা চক্রের আতঙ্কে বিজেশ্বর গ্ৰামবাসী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর থানাধীন রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্ৰামের এক আতঙ্কের নাম চাঁদাবাজ,ভূমিদস্যু, মাদক ডিলার বাদশা চক্র যার কাছে পুরো গ্ৰামটাই জিম্মি হয়ে আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।এবিষয়ে ভোক্তভোগী সোহেল এবং ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি বাবুল খন্দকার, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সহ একাধিক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের উপস্থসহ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কথায় নিউজ সংগ্রহে গেলে বিজেশ্বর গ্ৰামের এক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক ইয়াছিন মাহমুদ (ভূইয়া), কালের সমাজের স্টাফ রিপোর্টার ইসলাম আহাদ, দৈনিক ঢাকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি আলী ইমাম, দৈনিক মাতৃ জগতের প্রতিনিধি শিমুল এবং দৈনিক ভোরের চেতনার স্টাফ রিপোর্টার সিরাজ—গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকেের রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর মুন্সিবাড়ি (তিন রাস্তার মোড়) এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে যান।

এ সময় জমির সীমানা প্রাচীর পরিমাপ সংক্রান্ত একটি বিষয় ভিডিও ধারণ করছিলেন সাংবাদিক ইয়াছিন মাহমুদ। অভিযোগ রয়েছে, তখন স্থানীয় সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত সাগর মিয়ার নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়, ওই এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, অভিযুক্তরা এ বিরোধকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে পূর্বেও থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল।

ঘটনার দিন স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলে সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হন। জুমার নামাজের সময় অন্যান্য সাংবাদিকরা সাময়িকভাবে স্থান ত্যাগ করলে, ওই সুযোগে বাদশা মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল ইয়াছিন মাহমুদের ওপর হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন এবং পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার সময় অভিযুক্তরা তাকে পুনরায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় মোহাইমিনুল হক (চুন্নু), বাদশা মিয়া, আনিছ মিয়া, হামদু মিয়া, রাব্বি মিয়া, মানিক মিয়া, বাবু মিয়া মুন্সী, রাজন চৌধুরী ও নিশাত মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন,বিস্তারিত জানতে পারছি এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Link copied!