ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনাজপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

জেলা প্রতিনিধি, দিনাজপুর | মে ১৯, ২০২৬, ১০:২০ পিএম সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনাজপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে দিনাজপুরে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

১৯ মে ২০২৬ বুধবার জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস, দিনাজপুরের যৌথ আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ (কাঞ্চন-১)-এ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: রফিকুল ইসলাম।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোষিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে দেশব্যাপী নানামুখী জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, কৃষি ঋণ মওকুফ, নারীদের জন্য গাড়ি এবং বৃক্ষরোপণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই গত ১৬ই মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। এছাড়া গত ১০ই মার্চ ঢাকার কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ১৪ই এপ্রিল টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকারের এই ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীনে দেশের ৬৪টি জেলা তথ্য অফিস ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিস এই কর্মযজ্ঞের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে: ১০২১টি উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১০৬০টি টিভিসি প্রদর্শনী, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামিলি সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বা ‘কৃষি কার্ড’-এর বিস্তারিত সুফল তুলে ধরা হয়। বলা হয় এটি মূলত একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ সম্বলিত স্মার্ট কার্ড, যার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সনাক্ত করে সরাসরি সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

কৃষক কার্ডের প্রধান সুবিধা সমূহ: কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষকেরা সরাসরি সরকারি আর্থিক অনুদান ও কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা পাবেন। সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে অত্যন্ত সহজ শর্তে ও দ্রুততম সময়ে ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা মিলবে, যা লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা আনবে।

সার, উন্নত মানের বীজ এবং কীটনাশকের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে। কৃষক ও সরকারের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ফলে গ্রামগঞ্জের মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা প্রকৃত পেশাজীবী হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাবেন। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান ও চাল বিক্রির সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে নিজ জেলার উন্নয়ন ও ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জনাব মো: সিদ্দিকুর জামান নয়ন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব মো: আব্দুল মতিন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক জনাব মো: রিয়াজ উদ্দিন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম সরকারের এই উন্নয়নমূলক ও কল্যাণকামী উদ্যোগগুলোকে সাধারণ মানুষের সামনে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার জন্য জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান 

 

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!