কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে উপজেলা যুবদলের এক নেতাসহ তিনজনকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া গ্রামের জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গণপিটুনিতে আহতরা হলেন- চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিতরচর গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে আবদুল খালেক (৩৫), লালমাই উপজেলার কনকশ্রী গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে কাউছার হামিদ (৪০) এবং বেলঘর গ্রামের মৃত মাওলানা আবদুল হামিদের ছেলে আরিফ বিল্লাহ (৪৯)। আরিফ বিল্লাহ লালমাই উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার অনুসারী।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজনকে একটি ল্যাম্পপোস্টে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং স্থানীয়রা তাদের মারধর করছে। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। বিশেষ করে আরিফ বিল্লাহর পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আবদুল খালেক পাঁচপুকুরিয়া গ্রামের আয়নাল হকের গরুর ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ঘরের নারীরা চিৎকার করলে তিনি পালিয়ে পাশের একটি রান্নাঘরে লুকিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে মসজিদের সামনে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
একপর্যায়ে কাউছার হামিদ ও আরিফ বিল্লাহ ঘটনাস্থলে এসে আটক ব্যক্তিকে মারধর না করে মানবিক কারনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে তাদের উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে উত্তেজিত জনতা তাদেরও আটক করে এবং একপর্যায়ে তিনজনকেই ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে গণপিটুনি দেয়।
পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি প্রার্থী গোলাম আজম মজুমদার বলেন, ঘটনার সময় আমি আটিটি বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১ টায় পাঁচপুকুরিয়া মসজিদের সামনে গিয়ে দেখি তিনজনকে রশি দিয়ে ল্যামপোস্টে বেঁধে রাখা হয়েছে। আশেপাশে তিন থেকে চারশ লোক উপস্থিত। আমি তাৎক্ষণিক অনলাইন ভিউ থেকে আয়ের উদ্দেশ্যে দুটি লাইভ করি। কিন্তু পরবর্তীতে যখন জানতে পারি তিনজনের একজন আমার প্রিয় সংগঠন জাতীয়তাবাদি যুবদলের নেতা আমি লাইভগুলো ডিলেট করে ফেলি।
লালমাই উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ জাবেদ দাবি করেন, খবর পেয়ে রাত ২টায় আমি যুবদল নেতা আরিফ বিল্লাহ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানতে পারি আবদুল খালেক ছাড়া বাকি দুইজন নির্দোষ। তারা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ভুল বোঝাবুঝির কারনে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। মারধরকারীদের সনাক্ত শেষে ভুক্তভোগী আরিফ বিল্লাহ আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “আটক তিনজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে। বাকি দুইজন ঘটনাস্থল দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে এলাকাবাসী তিনজনকেই চোর সন্দেহে মারধর করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

